ঢাকাTuesday , 28 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝুলে আছে মাদকের ৬৫ হাজার মামলা

Link Copied!

madokনিজস্ব প্রতিবেদক : নানামুখি উদ্যোগেও মাদকের ব্যবহার কমছে না, বাড়ছেই সেবনকারীর সংখ্যা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি আদালতে মামলার পরিসংখ্যান মাদকের ব্যবহার বাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিতই দিচ্ছে। গত ৬ বছরের ব্যবধানে মামলার সংখ্যা বেড়েছে ৬ হাজারেও বেশি। মাদকবিরোধী আন্দোলনকারীরা বলছেন, মামলা নিস্পত্তি ধীর গতির কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাদক আইনে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৬৪ হাজার ৮১৯। এর মধ্যে ২০১০ সালে ৮ হাজার ১৯, ২০১১ সালে ৮ হাজার ৭৪৯, ২০১২ সালে ১০ হাজার ১৪, ২০১৩ সালে ১০ হাজার ১১১, ২০১৪ সালে ১১ হাজার ৭২৩ এবং ২০১৫ সালে মামলা হয়েছে ১২ হাজার ২৯৬। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজার মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। মূলত ইয়াবা, ফেনসিডিল, চোরাই মদ, গাঁজা, ইনজেকশন, হেরোইন উদ্ধারের ঘটনায় এসব মামলা হয়েছে।
মাদকের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে জেনেও মাদক আমদানি, সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন অনেকেই। সঙ্গে বাড়ছে সেবনকারীর সংখ্যাও। প্রযুক্তির প্রসারে মাদকের বিস্তার এখন খুব সহজ, পাশাপাশি এ থেকে আয়ও হচ্ছে বিপুল অর্থ।
দেশে প্রচলিত মাদক আইন অনুযায়ী মাদক বিস্তারের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু নানা আইনি জটিলতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) কর্তৃক দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না। বরং মামলার সংখ্যা বাড়ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ডিএনসির পক্ষ থেকে দায়ের করা মাদকের প্রায় ৬৫ হাজার মামলা এখনো ঝুলে আছে। হাতেগোনা কয়েকটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে।
এসব মামলা পরিচালনায় সমস্যাও অনেক। সাক্ষী জটিলতা, প্রসিকিউটরের অভাব, আলামত নষ্ট, তদন্তে ধীর গতি, আসামিদের ভুল তথ্য রেকর্ড করা ও সমন্বয়হীনতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে মনে করছে ডিএনসি।
মাদক মামলার জন্য পৃথক আদালত ও পর্যাপ্ত প্রসিকিউটর জরুরি। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং মাদক মামলাজট দ্রুত নিষ্পত্তিতে ডিএনসির পক্ষে পৃথক আদালত গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। সংস্থাটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
এই কর্মকর্তার মতে, মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ার প্রধান কারণ সাক্ষী জটিলতা। ডিএনসির কর্মকর্তাদের অধিকাংশই অবসরে যাওয়ার সময় অন্তত ৫০০ মামলা নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় রেখে যান। পরবর্তীতে ওইসব মামলার সাক্ষ্য দিতে তারা আদালতে আসেন না। আদালত থেকে তাদের খোরাকি দেয়ার বিধান থাকলেও অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার জন্য ডিএনসির কোনো বরাদ্দ নেই। যে কারণে সংশ্লিষ্ট কেউ নিজ দায়িত্বে সাক্ষ্য দেয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। এছাড়া নিরাপত্তার অভাবে সাধারণ সাক্ষীদের অনেকেই মামলার সাক্ষ্য দিতে আসেন না। সুতরাং মাদক মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিস্থিতি যে জটিল আকার ধারণ করেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকলে বিদ্যমান সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু জানান, আদালতে এসব(মাদকের) মামলায় এখন আর সহজে জামিন মিলছে না। আসামি আটকের প্রায় ১-২ মাস পরেই জামিন দিচ্ছেন আদালত। এসব মামলা আদালত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেই জামিনের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছেন। মাদকের মূলোৎপাটনে কালক্ষেপণের সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা দ্রুত নিতে হবে। চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রসঙ্গত, রোববার(২৬ জুন) আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মাদকবিরোধী সচেতনতার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে। ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম(ইউএনওডিসি) দিবসটি উপলক্ষে তাদের বাৎসরিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, বিশ্বে প্রায় ১শ’ ২০ লাখ মানুষ মাদকের সঙ্গে জড়িত। এদের মধ্যে প্রাপ্ত বয়ষ্করা মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার প্রথম ৬ বছরেই সামঞ্জস্যহীনভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। এদের মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ মাদকাসক্ত ব্যক্তি এইচআইভি এইডস ও টিভি রোগ নিয়ে বসবাস করছেন।