
বার্ষিক কর্মশালায় মঞ্চে উপস্থিত বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আযাদ (বাম থেকে ২য়), এসআরডিআই’র পরিচালক খোন্দকার মঈনউদ্দিন (বাম থেকে ৩য়), ডিএই’র পরিচালক (সরেজমিন) চৈতন্য কুমার দাস (সর্ববামে) এবং প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মকবুল হোসেন (সর্বডানে)
নিজস্ব প্রতিবেদক : মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)’র ২দিনব্যাপী বার্ষিক কর্মশালা আজ রোববার রাজধানীর ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে উদ্বোধন করা হয়েছে। এসআরডিআই’র পরিচালক খোন্দকার মঈনউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আবুল কালাম আযাদ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)’র সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ চৈতন্য কুমার দাস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কৃষক সেবা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মকবুল হোসেন।
কৃষিবিদ চৈতন্য কুমার দাস বলেন, কৃষিতে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় সাফল্য রয়েছে। দিনে দিনে দেশের আবাদযোগ্য মাটি কমছে কিন্তু ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পূর্বে জমিতে একফসলী আবাদ হতো, এখন আমাদের কৃষকরা এক জমিতে তিন বা ততোধিক ফসল আবাদ করছেন। এর ফলে আবাদী মাটির উপর বেশ চাপ পড়ছে; কাজেই এই মাটির গুণাগুণ রক্ষা আমাদের প্রধান কর্তব্য। এ লক্ষ্যে এসআরডিআইসহ কৃষিবিভাগ যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের সকল কৃষকের মাটি পরীক্ষার আওতায় নিয়ে এসে মৃত্তিকা পরীক্ষা করে সুষম সার প্রয়োগের বিষয়ে তাদের সচেতন করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ড. আবুল কালাম আযাদ বলেন, কৃষিখাতে আমরা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছি। এ সাফল্য ধরে রেখে টেকসই কৃষি উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, মৃত্তিকা কৃষি উৎপাদনের মূল উপাদান এবং আমাদের মৃত্তিকার ব্যাপক বৈচিত্র্য রয়েছে। এসআরডিআই কর্তৃক মৃত্তিকা পরীক্ষা ও জরিপ সংক্রান্ত বাস্তবায়িত বেশকিছু কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আবাদী জমি দূষণসহ বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত। এ সময় তিনি বলেন, ক্রপ জোনিংয়ের ক্ষেত্রে মৃত্তিকার গুণাগুণ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, দেশের জলবায়ু পরিবর্তন হয়েছে, অকাল খরা ও বন্যা হচ্ছে, মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে মৃত্তিকা পরীক্ষা, এর ধরণ ও গুণাগুণ অনুযায়ী সুষম সার প্রয়োগ, কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্য রাখছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মকবুল হোসেন
খোন্দকার মঈনউদ্দিন বলেন, কৃষির মূল উপাদান মৃত্তিকার সঠিক ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের মাটি পরীক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি মৃত্তিকার গুণাগুণ অনুযায়ী সার প্রয়োগে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসআরডিআই নির্মিত মৃত্তিকা পরীক্ষা ও গবেষণাগারে কৃষকরা এখন সহজেই তাদের মাটির নমুনা পরীক্ষা করাতে পারছেন। এ ছাড়া, অধিকাংশ উপজেলায় মৃত্তিকা নির্দেশিকা ও সার সুপারিশ সরবরাহ করা হয়েছে এবং কৃষি বিভাগ কৃষকদের এ সংক্রান্ত সেবাও প্রদান করছেন; ভেজাল সারের প্রয়োগ বন্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. মো. মকবুল হোসেন বলেন, প্রতি বছর ৩০টি উপজেলা নির্দেশিকা নিয়মিত নবায়ন করা হচ্ছে। এ নির্দেশিকায় উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য-উপাত্ত সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এতে মাটি, ভূমি ও কৃষি জলবায়ুর উপর ভিত্তি করে কোথায় কোন ফসল করা যাবে এবং একক ফসল ও ফসলবিন্যাস অনুসারে কতটুকু সার প্রয়োগ করতে হবে তা বর্ণনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া, ইউনিয়নভিত্তিক ‘ভূমি, মাটি ও সার সুপারিশ সহায়িকা (ইউনিয়ন সহায়িকা)’ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমের আওতায় ইতোমধ্যে ৫শ’টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন সহায়িকা প্রকাশ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কর্মশালায় জানানো হয়, মৃত্তিকার উর্বরতা মানের ভিত্তিতে বিভিন্ন ফসলের চাহিদা অনুসারে সুষম সার ব্যবহারের লক্ষ্যে এসআরডিআই’র কেন্দ্রীয় ও ১৫টি আঞ্চলিক মৃত্তিকা পরীক্ষাগারের মাধ্যমে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত মাটি পরীক্ষা করে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার কৃষককে ফসলভিত্তিক সুষম সার সুপারিশ কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া, আইসিটি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ‘অন-লাইন সার সুপারিশ সেবা কার্যক্রম’ চালু করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই যে কোনো ফসলের জন্য দেশের যে কোনো স্থানের মাটি পরীক্ষাভিত্তিক সার সুপারিশ করা যাবে। এছাড়া ভেজাল সারের বিস্তার রোধে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার সারের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এসআডিআই’র মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কৃষক সেবা প্রকল্পের আযোজনে এ কর্মশালায় গত এক বছরের কার্যক্রম তুলে ধরা হয় এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। অনুষ্ঠানে কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

