একরামুল হক : ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সাব রেজিস্ট্রার ফজলার রহমান আতঙ্কে ভুগছেন ওখানে কর্মরত দলিল লেখকরা। সুচতুর সাব রেজিস্ট্রার ফজলার রহমান দলিল লেখকদের কাছে এখন এক মূর্তমান আতঙ্ক। নির্ধারিত ঘুষের চেয়ে অনেক বেশী টাকা নেয়ার কারণে দলিল লেখকরা তাদের পারিশ্রমিকও ঠিকমত পান না। কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস কারো নেই। প্রতিবাদ করলে সনদ বাতিলের হুমকি দেন সাব রেজিস্ট্রার ফজলার রহমান। ওখানে কর্মরত দলিল লেখকগণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ‘আমাদের কর্মকালীন সময়ে এ রকম অসৎ সাব রেজিস্ট্রার আর পাইনি। আমরা ফজলার রহমানের আচরণ ও অনৈতিক কর্মকা-ে এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি।’ দৈনিক পাঞ্জেরী’তে গত ৮ এপ্রিল দুর্র্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রারের স্বেচ্ছাচারিতা, কেরানীগঞ্জে প্রজ্ঞাপন ছাড়াই জমি রেজিস্ট্রেশন বন্ধ, বিপাকে মালিকরা’ শীর্ষক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে রেজিস্ট্রেশন বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নীরবতা পালন করছেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, সাব রেজিস্ট্রার ফজলার রহমানের কর্মকা-ে তারাও ক্ষুব্ধ। এজলাসে বসে ঘুষের টাকা গ্রহণ এবং কিছুক্ষণ পর পর তার ভাতিজার মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ) থেকে বাইরে পাঠিয়ে দেয়ার দৃশ্য সবাই দেখলেও প্রতিবাদ করার সাহস কারো নেই। দৈনিক পাঞ্জেরীতে ফজলার রহমান সম্পর্কিত তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সিনিয়র সাংবাদিকদের দিয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করার চেষ্টাও চালান। কিন্তু সে মিশন ব্যর্থ হয়ে যায়। সূত্র জানায়, তার কর্মকা-ে আইজিআর পরিদপ্তরের কর্মকর্তারাও নাখোশ। তা হলে প্রশ্ন ফজলার রহমানের খুঁটির জোর কোথায়? ফজলার রহমান ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালনকালে বনের জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেজিস্ট্রি করে দেয়ায় তখনকার সময় তার নামে বেশ কয়েকটি মামলাও দায়ের করে বন বিভাগ। দৈনিক সমকাল পত্রিকায় গত ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই বন বিভাগের জমি রেজিস্ট্রি, ভালুকার সাব রেজিস্ট্রার ফজলার রহমানের নামে ৫ মামলা শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হলে ঐ সময় রেজিস্ট্রেশন বিভাগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঐ সময় ময়মনসিংহ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক সারোয়ার আলম বলেন, ফজলার রহমানের দায়িত্ব পালনকালে রেকর্ড পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি বেহাত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মৌজার বনের গেজেটভুক্ত জমির শতাধিক দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় যোগদান করার পর তিনি অসংখ্য জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন এ রকম নানা অভিযোগ আমাদের হস্তগত হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, সাব রেজিস্ট্রার ফজলার রহমান সম্পর্কে অসংখ্য মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি আইজিআর স্যারকে জানাবো। এ ব্যাপারে ফজলার রহমানের মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

