নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন সোনারগাঁও ফরেস্ট চেক স্টেশনে আবারও দুর্নীতিবাজ ফরেস্ট রেঞ্জার ইসমাইল হোসেন খান দায়িত্ব পেয়েছেন। বন নীতিমালা উপেক্ষা করে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। বন নীতিমালা অনুযায়ী কোন চেক স্টেশনে একবার চাকুরী করলে পরবর্তী ৮ বছরের মধ্যে তাকে ঐ স্থানে আর পদায়ন করার সুযোগ নেই। তবুও রহস্যজনক কারণে ঐ দুর্নীতিবাজ ফরেস্ট রেঞ্জার ইসমাইল হোসেন খানকে পদায়ন করা হয়েছে। বিগত ৪ বছর পূর্বে এই ফরেস্ট রেঞ্জার ইসমাইল হোসেন খান লোভনীয় স্থান সোনারগাঁও চেক স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তাকে নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঐ সময় প্রতিমাসে এখান থেকে লাখ লাখ টাকা আয় করেন তিনি। সোনারগাঁও চেক স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রতি রাতে প্রতিটি কাঠ বোঝাই ট্রাক থেকে নির্ধারিত হারে উৎকোচ গ্রহণ করেন ইসমাইল হোসেন খান। নিয়ম অনুযায়ী কাঠ বোঝাই ট্রাক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার নিয়ম থাকলেও শুধু টি.পি (ট্রানজিট পাস) স্বাক্ষর করেই ছেড়ে দেন। সূত্র জানায়, ইসমাইল হোসেন খান একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও কোন ক্ষমতার বলে তাকে পুনরায় সোনারওগাঁও চেক স্টেশনে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে-এ নিয়ে বন বিভাগে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। অতি সম্প্রতি বন বিভাগের একটি চক্র প্রধান বন সংরক্ষকসহ বেশ কয়েকজন বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেনামি দরখাস্ত সরকারের বিভিন্ন মহলে প্রেরণ করে। এতে প্রধান বন সংরক্ষকসহ অনেক কর্মকর্তার চরিত্র হনন করা হয়েছে এবং এই দরখাস্তের আলোকে কয়েকটি গণমাধ্যম ফলাও করে সংবাদ পরিবেশন করে। এতে বন বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই বেনামী দরখাস্তের সংগে ইসমাইল হোসেন খানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও একজন দুর্নীতিবাজ ফরেস্ট রেঞ্জারকে সোনারগাঁও চেক স্টেশনে পদায়ন করায় সুধীমহল বিস্মিত ও স্তম্ভিত। দেশে এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃশ্যমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলছে। জিরো টলারেন্সে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করছে। ইতোমধ্যে দুর্নীতিবাজ বেশ কিছু সরকারী কর্মকর্তা (সাবেক ও বর্তমান) গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ তালিকায় ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য পেশার লোকজনও রয়েছেন। দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের মধ্যেও একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ফরেষ্ট রেঞ্জারকে সোনারগাঁও চেক স্টেশনে পোস্টিং দেওয়ায় আবারো গণমাধ্যমে শিরোনাম হচ্ছে বন বিভাগ।
সূত্র আরও জানায়, ঢাকা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ নিশাদ গত ১৯ এপ্রিল এক অফিস আদেশে সোনারগাঁও নার্সারীতে কর্মরত দুর্নীতিবাজ ফরেষ্ট রেঞ্জার ইসমাইল হোসেন খানকে পদায়ন করেন। এদিকে, বন বিভাগের অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, ইসমাইল হোসেন খান চাকুরী জীবনের অধিকাংশ সময় চেক স্টেশনসহ লোভনীয় স্থানে চাকুরী করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে একজন প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয়ে বন কর্মকর্তাদের বাধ্য করে লোভনীয় স্থানে পোস্টিং নিতেন। এ ব্যাপারে গত রাতে দৈনিক পাঞ্জেরী’র পক্ষ থেকে ঢাকা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ নিশাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইসমাইল হোসেন খানকে সাময়িক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, ফরেস্ট রেঞ্জার ইসমাইল হোসেন খানের মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

