ঢাকাTuesday , 5 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষের মহোৎসব

Link Copied!

ortho-banijjoনিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা জেলার সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ ছাড়া জমি রেজিস্ট্রি হয় না বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাগজপত্রে ত্রুটির কথা বলে জমি ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে দাবি করা হয় মোটা অংকের ঘুষ। না দিলে জমি রেজিস্ট্রি হয় না। অফিসের কেরানী থেকে শুরু করে সাব রেজিস্ট্রার সবাইকে ঘুষ দিতে সুকৌশলে বাধ্য করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ‘ফি’ এর বাইরে সংশ্লিষ্ট দলিল লেখককে দিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। সবমিলে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিস। ভুক্তভোগীরা জানায়, বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম এই অফিসে যোগদান করেই অবৈধ উপায়ে দু’হাতে অর্থ উপার্জনে বেপরোয়া হয়ে উঠেন।
সূত্র জানায়, সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম প্রতিমাসে ১৫-২০ লাখ টাকা অবৈধ উপায়ে উপার্জন করেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম কোন কোন দিন ৫০ হাজার আবার কখনও লাখ টাকাও অবৈধ পথে উপার্জন করেন। এই টাকার কিছু অংশ দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করা হয়। সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সেখানেও ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কাউকে পরোয়া করেন না। তিনি দাম্ভিকতার সুরে বলেন, গণমাধ্যমে লিখে কোন লাভ হবে না। কারণ তিনি সবাইকে ম্যানেজ করে চলেন। গত রাতে এই প্রতিবেদক অভিযোগের সূত্র ধরে তার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে রোমহর্ষক তথ্য পেয়েছেন। জমি রেজিস্ট্রেশনের নামে কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকার পরও দলিলপ্রতি নির্ধারিত হারে সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলমকে ঘুষ দিতে হয়।
বর্তমান আইনমন্ত্রী অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সাব রেজিস্ট্রারদের পোস্টিং দিলেও মাঝপথে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা মোটা অংকের অর্থ সুকৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনই তথ্য সাভারের সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম তার ঘনিষ্ঠজনদের বলে বেড়ান এবং তার পোস্টিংও নাকি এভাবে হয়েছে। আর এ কারণে জাহাঙ্গীর আলম কাউকে পরোয়া করেন না।
ঘুষ বাণিজ্যের কারণে স্থানীয় প্রশাসনও বিব্রত। এ ব্যাপারে গত রাতে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এখন বাসায়। পরিবারের সামনে এ নিয়ে কোন কথা বলতে চাই না।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্ব পালনে রয়েছে ব্যাপক গাফিলতি। সরকারি অফিস সময় পালন না করার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতারা ক্ষুব্ধ। এ ছাড়া দলিলপ্রতি নির্ধারিত হারে উৎকোচ দেয়াটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। দলিল লেখকের সাথে দুর্ব্যবহার করায় তারাও ক্ষুব্ধ। ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রতিদিন অফিস সময়ের পরে ঘুষ/উৎকোচের টাকা নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান পরিচালনা করলে সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলমকে হাতেনাতে ঘুষের টাকাসহ আটক করা সম্ভব।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, বর্তমান সরকারের অসংখ্য সফলতা ঢাকা পড়ছে সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম মতো দুর্নীতিবাজদের কারণে। সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন গোপনে অভিযান পরিচালনা করলে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ জাহাঙ্গীর আলমের বেপরোয়া দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসবে। তার অনৈতিক উৎকোচ গ্রহণের কারণে রেজিস্ট্রেশন বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, জাহাঙ্গীর আলম নাকি আইজিআর অফিস এবং মন্ত্রণালয় ম্যানেজ করে এইসব বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালান। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা আইন মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইজিআর পরিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ছাড়া সাভার সাব রেজিস্ট্রি অফিসে আউটসোর্সিং কতিপয় ব্যক্তি রয়েছেন। যারা এই দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রারের দোসর হিসাবে কাজ করেন। সূত্র জানায়, উমেদার পলাশ অফিসিয়াল আদেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র দেখভাল করলেও ইব্রাহিম, রহিম ও বাবুল উমেদার পলাশের সহযোগী হিসাবে কাজ করছেন। যাদের কাজ করার কোন বৈধতা নেই। অথচ এরাই সাভার অফিসের সর্বেসর্বা।