নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০০৭ সালের এক এগার-এর প্রেক্ষাপটে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হওয়ার সময় আওয়ামী লীগের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ‘সংগঠন করি বলে কারও নাম বলতে চাচ্ছি না। কিন্তু সেসময় কার কী ভূমিকা ছিল তা দেশের মানুষ জানে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাক্ষী। কী ছিল পার্টির অবস্থা?’
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে যুবলীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পার্টির নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ মাইনাস টু থিয়োরি করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনারা তাদের ফাঁদে পা দিবেন কেন?’
গত তত্ত্বাবধায় সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্বের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমার হাতে একটি কাগজ দিয়ে বলছিলেন, এটা গণমাধ্যমে জানিয়ে দিয়েন। আর ওই কাগজে লিখা ছিল, তার অবর্তমানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি (তখন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য) জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তখন আমি নেত্রীকে বললাম, আপনি গাড়িতে উঠার আগে যতটুকু পারেন উচ্চস্বরে বিষয়টি বলে যান। কারণ আমি জানতাম, তিনি বলে না গেলে অন্যরা বলবে এটা বানোয়াট লেখা। ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে কাগজটা দেখা হবে। লেখাটা চ্যালেঞ্জ করা হবে।’
সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করা রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করেন মতিয়া চৌধুরী। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আন্দোলন ও প্রেক্ষাপটে দেশ ও জনগণের জন্য শেখ হাসিনার অবিচল থাকার কয়েকটি বর্ণনা দেন তিনি।
যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র একটি স্লোগান দিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা যায় না। রোদ, বৃষ্টিতে অবিচল থেকে রাজনীতি করতে হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুবলীগ মানে যুবশক্তি। এ শক্তিকে কোনো সুখের খাঁচায় বন্দী করা যায় না। এর প্রমাণ হল নব্বইয়ের গণঅভ্যূত্থানের শহীদ নূর হোসেন।’
যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, আতাউর রহমান, মাহবুবুর রহমান হিরণ, মজিবুর রহমান চৌধুরী, শহীদ সেরনিয়াবাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাঈনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ।

