নিজস্ব প্রতিবেদক : বহুদিন পর ছাত্রলীগকে এমন সুশৃঙ্খলভাবে দেখছি। ছাত্রলীগকে এই চেহারায় আগে কখনো দেখিনি। এই পরিবেশটা গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে যেন এই শৃঙ্খলা থাকে সেই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ওবায়দুল কাদের। এসময় তিনি ছাত্রলীগকে মুল্যবোধ ধরে রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান।
এসময় তিনি বলেন, ‘আজকে সমালোচনা করার কিছুই পাচ্ছিনা। তবে একটি বিষয়ে আমি খুব বিচলিত হয়েছি। আজকে সব বক্তাদের মুখে বিদায়ের করুণ সুর। মেহেদী-শরীফরা (ঢাবি শাখা সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক) ক্ষমা চাইছে কেন? রাজনীতিতে ভুল আছে, মিথ্যা আছে। এ জন্যে এভাবে কান্নাজড়িত কন্ঠে বিদায় চাওয়ার মানে কি?’
তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে আত্মত্যাগের মুহুর্ত পর্যন্ত বিদায় বলোনা। রাজনীতিতে শেষ বলে কিছুই নেই। হয়তোবা পট পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু ‘কাভি আলবিদা না কেহেনা’।
তিনি আরো বলেন, সেদিন শেখ হাসিনাকে নাগরিক কমিটি গণসংবর্ধনা দিল, অথচ তারা জানেনা ২০০১ সালে ছাত্রলীগ শেখ হাসিনাকে দেশরত্ন উপাধি দিয়েছিল। ছাত্রলীগ যা বলে তা করে আর অন্যেরা যা করে কেবল তাই বলে। ছাত্রলীগ সবসময়ই নতুন নতুন কাজের আইডিয়া দেয়।’
ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন গত ২৫ বছর ধরে বন্ধ। অথচ এই সময়ে কমপক্ষে ৫০ জন নেতা বেরিয়ে আসতো। আমি ছাত্রলীগকে অনুরোধ জানাবো তারা যেন এ বিষয়ে সাহায্য করে। আমাদের কেউ নির্বাচিত হবেনা এই ভয়ে যেন ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ না থাকে। ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মন জয় করে আমরা নির্বাচিত হতে চাই। এসময় তিনি সারাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে জোর তাগিদ দেন।’
ছাত্রলীগের লবিং রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সারাদিন সোহাগ-নাজমুলের পিছনে ঘুরলে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেয়া হয়না। এতে চামচামির শিরোনাম হওয়া যায়। শুধু কে কয়জনকে চেনে তা দিয়ে রাজনীতি হয় না। তুমি তোমার যোগ্যতা দিয়ে নেতা হবা আরেকজনের করুণা দিয়ে কেন?’
বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই বছর না ওই বছর, মানুষ বাঁচে কয় বছর? বছরের পর বছর যায়, তাদের আন্দোলনের কোন খবর থাকে না। সেজন্যেই শুধু তাদের নালিশ আর নালিশ। তাদের কথায় কথায় রং বদলায়। তারা আন্দোলন করে কিছুই করতে পারেনি। আমাদের শক্তি জনগণ। জনগনই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, তারাই কেবল তাকে নামাতে পারে। এসময় তিনি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের গত ৪০ বছরের সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসক ও সফল কূটনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কর্তৃক আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাবি সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লা। এতে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং এর হলশাখাগুলোর নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

