যশোর প্রতিনিধি : যশোরে পৃথক ঘটনায় বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন এবং পরকীয়া প্রেমের জের ধরে প্রতিবেশির হামলায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। পৃথক এ ঘটনায় দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার জয়ন্তা গ্রামে ও সোমবার মধ্যরাতে মণিরামপুরের সুজাতপুরে পৃথক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- জয়ন্তা গ্রামের কোরবান আলী মোল্লার ছেলে লিটন হোসেন মোল্লা (২৮) ও সুজাতপুর গ্রামের সঞ্জয় সরকারের ছেলে মশিয়াহাটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র হিরক সরকার (১৩)।
পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত করেছে।
নিহত স্কুলছাত্র হিরকের চাচা স্বপন সরকার জানান, সোমবার বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে হিরক সরকার তার বন্ধু দেবু মণ্ডল ও দীপ্তকে নিয়ে বাড়ির পেছনে মাছের ঘেরে খেলতে যায়। খেলার এক পর্যায়ে দেবু মণ্ডল ও হিরক সরকারের মধ্যে বিরোধ বাধে। এ সময় হিরকের গলায় থাকা গামছা ধরে দেবু টান দিলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় হিরককে ঘেরের পানিতে ফেলে দিয়ে দেবু বাড়ি চলে যায়। পরে গভীর রাতে খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে ঘেরে হিরকের লাশ পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হিরকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা খবির আহমেদ জানান, স্কুলছাত্র হিরক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেবুকে আটক করা হয়েছে। খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, পরকীয়া প্রেমের জের ধরে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জয়ন্তা গ্রামে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন লিটন হোসেন মোল্লা নামে এক যুবক।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিকদার আক্কাস আলী জানান, জয়ন্তা গ্রামের শাহাদৎ হোসেনের মেয়ে রূপালির স্বামী বিদেশে থাকেন। স্বামী বিদেশে থাকায় প্রতিবেশি লিটনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোমবার মধ্যরাতে লিটন রূপালির সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় রূপালির বাবা শাহাদৎ ও তার ভাই রমজান টের পেয়ে লিটনকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে লিটনের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে লিটন মারা যান। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে পুলিশ শাহাদৎকে আটক করেছে।

