চট্টগ্রাম প্রতিবেদক : সাগর পথে মানব পাচার রোধে সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।
সোমবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা মানবপাচার কমিটির এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মানব পাচার ঠেকাতে জনগণকে সচেতন করতে হবে। অবৈধভাবে বিদেশে যাতায়াতকারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এভাবে গেলে যে জীবনের ঝুঁকি থাকে তা সবাইকে বুঝাতে হবে। ইউনিয়ন ও উপজেলা মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটি সক্রিয় করতে হবে। ভুক্তভোগীদের নিয়ে মানব পাচার বিষয়ক সভা করলে জনগণ আরও বেশি সচেতন হবে। এছাড়া মানব পাচারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে পোস্টার লাগিয়ে এবং প্রামাণ্য চিত্রের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।’
মানব পাচারকারীদের কোন ছাড় নেই জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মানব পাচার ঠেকাতে চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে সতর্কতা বৃদ্ধি করা হবে। মানব পাচারকারীরা যতই শক্তিশালী হোক তাদের কোন ছাড় নেই। রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আরও কঠোর হতে হবে। নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলগুলো নজরদারিতে রাখতে হবে।’
জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘মানব পাচার রোধে গঠিত আইনগুলোর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া মানব পাচার রোধে ট্রলারগুলোকে লাইসেন্স দিয়ে একটি আইনের আওতায় আনা গেলে এসব ঘটনা কমে আসতে পারে।’
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাঈমুল হাছান বলেন, ‘মানব পাচার রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জনপ্রতিনিধি ও মসজিদের ইমামদের নিয়ে জনসচেতনামূলক সভা করে চলেছে জেলা পুলিশ। ইতিমধ্যে মানব পাচারকারীদের একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। মানব পাচারে জড়িত কিছু অপরাধী কারাগারে আছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধ করতে এখন প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত প্রয়াস।’
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ খান বলেন, ‘বাঁশখালী উপজেলায় ৩৫ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানবপাচার হয়ে অাসছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীরা মানবপাচারে জড়িত। এ চক্রকে ধ্বংস করতে পারলে মানবপাচার বন্ধ হবে।’
সভায় বক্তব্য রাখেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক আবুল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবদুল জলিল, র্যাব-৭ এর উপ অধিনায়ক মেজর জাহাঙ্গীর, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সহকারী পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার, পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার দীপক জ্যোতি খীসা, সহকারী কমিশনার (ইমিগ্রেশন) শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ প্রমুখ।

