ঢাকাSunday , 7 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজউক কর্মকর্তার সাহায্যে প্লট আত্মসাৎ

Link Copied!

Rajukনিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালকসহ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পূর্বাচলে কুয়েত প্রবাসী এক ব্যক্তির নামে বরাদ্দকৃত একটি প্লট আত্মসাৎ করেছে একটি জালিয়াতি চক্র। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ায় সম্প্রতি রাজউকের পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের পরিচালক একেএম আহসান ইকবালসহ আটজনের এক জালিয়তি চক্রের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন অনুসন্ধানী কর্মকর্তা। রোববার দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দুদক সূত্র জানায়, ২০০২ সালে রাজউকের পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ক্যাটাগরিতে সাড়ে সাত কাঠার একটি প্লট পান কুয়েত প্রবাসী কাজী জামাল, যার কোড নম্বর-২১৮১ এবং আইডি নম্বর-৩০-৪০১-১৬। অসুস্থ হওয়ার কারণে প্লটের উন্নয়ন কাজ করতে না পারায় তার নিকটাত্মীয় আবদুল কাইয়ুমকে আমমোক্তারনামা প্রদানে রাজউকের দ্বারস্থ হন। তখন কাজী জামাল জানতে পারেন, তার প্লটটি ইতোমধ্যে আক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে আমমোক্তারনামা দেয়া হয়েছে। তখন তিনি প্লট আত্মসাতের একটি অভিযোগ করেন দুদকে।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, কাজী জামাল প্লট বরাদ্দ পাওয়ার পর বিভিন্ন কাজে রাজউকে আসা-যাওয়া করতেন। এ সুবাদে জালিয়াত চক্রের সদস্য আবুল কালাম খন্দকার আজাদ এবং রুহুল আমিন খাদেমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্লটের কাগজ ঝামেলামুক্ত করে দেয়ার কথা বলে তারা কাজী জামালের প্লটের কাগজপত্র নিয়ে নেন। পরে তারা জামালকে জানান, কাগজপত্র হারিয়ে গেছে। এরপর তারা জামালকে প্লটটি তাদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দেন। জামাল তাতে রাজি হননি। পরে আবুল কালাম ও রুহুল আমিন খাদেম রাজউকের এস্টেট-৩-এর উপপরিচালক একেএম আহসানউল্লাহ, নিম্নমান সহকারী রাজিয়া সুলতানা এবং সহকারী পরিচালক আবুল বশরকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
তারা ভিন্ন এক ব্যক্তিকে কাজী জামাল সাজিয়ে রুহুল আমিন খাদেমের আত্মীয় ও এই চক্রের আরেক সদস্য আক্তার হোসেনের নামে আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রি করেন। ওই প্রকল্পের পরিচালক একেএম আহসান ইকবাল ভুয়া কাজী জামালকে আসল কাজী জামাল হিসেবে শনাক্ত করে হাজিরা নেন। রূপগঞ্জের তৎকালীন সাবরেজিস্ট্রার আবদুল মালেক যাচাই না করেই আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রি করেন।
দুদক সূত্র আরো জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় রাজউকের পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের পরিচালক একেএম আহসান ইকবাল, একই প্রকল্পের সাবেক সহকারী পরিচালক (বর্তমানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী সচিব) মো. আবুল বশর, রূপগঞ্জের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার (বর্তমানে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার) মো. আবদুল মালেক, রাজউকের নিম্নমান সহকারী রাজিয়া বেগম, জালিয়াত চক্রের সদস্য মো. রুহুল আমিন খাদেম, মো. আক্তার হোসেন, এমএকে খন্দকার আজাদ এবং মো. আশরাফ উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা করার সুপারিশ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। গত ২ জুন মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি দাখিল করেছিলেন দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা এ এস এম রফিকুল ইসলাম। কমিশন প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিলেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।