নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘাটতি ও দীর্ঘ হলেও এটি বাস্তবায়নযোগ্য দাবি করে তিনিটি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও আইন বিচার বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের তিন পরামর্শের মধ্যে রয়েছে- ১. ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা বৃদ্ধি করা, ২. খেলাপি ঋণ কালচারকে প্রশ্রয় না দেয়া এবং ৩. রাজস্ব আয়ের উৎসগুলো গুরুত্বে সাথে মনিটরিং করা।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে নৌকা সমর্থক গোষ্ঠীর চলমান রাজনীতি বিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন।
এবারের বাজেট নিয়ে আশা প্রকাশ করে সুরঞ্জিত বলেন, ‘সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী (৭/৫) পরিকল্পনার প্রথম বাজেট এটি। এ জন্য এই বাজেট বিশাল, একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। এই বাজেট নিয়ে আমি আশাবাদী। আমাদের অর্থনৈতিক সূচকগুলো ইতিবাচক। তাই দৃঢ়ভাবে বলতে পারি বাজেটের পূর্ণ বাস্তবায়ন হবে।’
তিনি বলেন, ‘সমালোচকরা বলেন- এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষার বাজেট। উচ্চাকাঙ্ক্ষারইতো হবে নাকি নিম্নকাঙ্ক্ষার হবে? দেশের উন্নয়নে উচ্চাকাঙ্ক্ষাই করতে হবে। সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।’
বিএনপিসহ সকল বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘একটা বছর শান্তি দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশ এনে দেবেন। ইতোপূর্বেই ‘নৈরাহ্যবাদীদের মুখে ছাই দিয়ে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এনে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়ে সুরঞ্জিত সেন বলেন, ‘সবকিছু বদলানো যায় কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না। বিএনপি পাকিস্তান থেকেও ভারত বিরোধিতা বেশি করেছে। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকারীদের উস্কানি দিয়েছে তারা। পরে শেখ হাসিনা তার প্রজ্ঞা দিয়ে ভারতের সাথে সু-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং হাসিনা-মোদি বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার এক রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
গতকাল নিজ দলের প্রতি কটাক্ষ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হাস্য রস করে সুরঞ্জিত বলেন, ‘আমার আর কিছু বলার নাই। যা বলার উনি (মাহবুবুর) নিজেই বলে দিয়েছেন। বিএনপির নেতারা সব দুর্নীতিবাজ বলে তিনি নিজেই সত্যের বোমা ফাটিয়েছেন।’
সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. ইমদাদুল হক সেলিমের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার শামসুল হক রেজা, সামবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা হারুন চৌধুরী, সংগঠনের সদস্য সচিব হুমায়ূন কবির মিজি, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানু প্রমুখ।

