কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিরসন, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাত বন্ধে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঈদগাঁও থানার হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার। সভা সঞ্চালনা করেন থানার সেকেন্ড অফিসার সনক কান্তি দে।
পুলিশ কর্মকর্তা অচিন্ত কুমার দে, উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবুল কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার মল্লিক, জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্য ডা. সঞ্জিত দাস, ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি সুমন কান্তি দাশসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যানজট, মাদক ব্যবসা, বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা জনসাধারণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এলাকায় বখাটেদের উৎপাত বন্ধে নিয়মিত পুলিশি অভিযান পরিচালনার দাবিও জানায়।
এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি যারা তাদের সহযোগিতা ও আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তাদেরও আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ। আসন্ন দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
সভায় জানানো হয়, ১৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ঈদগাঁও উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২০ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। উপজেলায় ১৭টি প্রতিমাপূজার আয়োজন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদার বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কিশোরদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তাসংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপনের জন্য ১৭টি ব্যানার দেওয়া হবে। এসব ব্যানারে ওসির মোবাইল নম্বর ও ডিউটি অফিসারের ফোন নম্বর থাকবে। ফলে যেকোনো অপরাধ বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানানো সম্ভব হবে।
সভায় বিকাশ দে, নিখিল দাশ, রুবেল দাশ, নয়ন দাশ, জনি পালসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

