‘মানবতার সেবায় আমরা, স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যাক মানুষের দোরগোড়ায়’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোংলায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প ও চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্যাম্পে চক্ষু, গাইনি ও মেডিসিনসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন সহস্রাধিক নারী-পুরুষ। পাশাপাশি বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) মোংলার চালনা বন্দর সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মাঠে এ মেডিক্যাল ক্যাম্প ও চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই চিকিৎসাসেবা নিতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ভিড় দেখা যায়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প ‘আলোকিত বাগেরহাট’-এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সহযোগিতায় এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়। ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আদ্-দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দিনব্যাপী ক্যাম্পে চক্ষু, গাইনি ও মেডিসিনসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। চক্ষু শিবিরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় চোখের বিভিন্ন রোগ শনাক্তকরণে। চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসার পাশাপাশি ছানি রোগীদের শনাক্ত ও বাছাই করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশনের জন্য উপযুক্ত রোগীদের পরবর্তীতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করাতে না পারলেও এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পেয়েছেন তারা। বিনামূল্যে এমন চিকিৎসাসেবা পেয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অর্থের অভাবে যাতে কোনো মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, অর্থের অভাবে অনেক দরিদ্র মানুষ সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে চোখের সমস্যায় ভোগা মানুষের কথা বিবেচনা করে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় রোগীদের ছানি অপারেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। স্থানীয়দের মতে, উপকূলীয় এলাকার সাধারণ ও অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের বিনামূল্যের চিকিৎসা কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

