গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি বলেছেন, একটি জনপথের সার্বিক উন্নয়নের মূলমন্ত্র সেতু। আমি মনে করি সেতুটি এ জনপথের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকাল ৩টায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের কুলাঘাট বাজার সংলগ্ন লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের আয়োজনে এ রত্নাই ব্রিজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশল দেবাশীষ সাহা, লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীতা দাস, কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলীসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২০কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে রত্নাই ব্রিজটি। এর দৈর্ঘ্য ১৩০মিটার এবং প্রস্থ ১০দশমিক ৫মিটার। ‘প্রজেন্ট ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে।
২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়ক, রং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইনচার্জ এস. এম. রিয়াজ মোর্শেদ বলেন, জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে বর্তমানে দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করা হয়েছে। কোরবানির ঈদের চার দিন আগেই সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়। দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজও শেষ হয়েছে। সড়কের দুই পাশে গাইডওয়াল বিভিন্ন রঙে সাজানো হয়েছে।
তিনি জানান, উদ্বোধনের পর মূল সেতুর রেলিংয়ের কিছু কাজ সম্পন্ন করা হবে।
লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা বলেন, সেতুর মূল কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে সংযোগ সড়ক ও রঙের কিছু কাজ চলছে।
রত্নাই সেতু চালু হওয়ায় শুধু একটি নদীর ওপর যোগাযোগের নতুন পথই তৈরি হলো না; দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন ও ঘুরপথে চলা দুই জেলার মানুষের জন্য খুললো সরাসরি যোগাযোগের নতুন দুয়ার। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে যুক্ত হবে নতুন গতি।

