রাজধানীর কাফরুল থানাধীন ইব্রাহিমপুর বাজার রোডের প্লট নং-৯১১ এলাকায় রাজউকের অনুমোদিত নকশা ছাড়াই চারতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন ভবনটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকা, সেফটি ট্যাংক না থাকা, পাইলিং না করা এবং ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় জায়গা না ছাড়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় চার মাস ধরে ভবনটির নির্মাণকাজ চললেও আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভবনটি ওপরের দিকে নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে পাশের বাড়িঘর ও সড়কে চলাচলকারী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণসংক্রান্ত কাগজপত্র ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় নির্মাণকাজে নিয়োজিত কন্ট্রাক্টর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার দাবি করলেও সাংবাদিকদের তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও তিনি সুস্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।
ভবনটির মালিক আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করলেও তিনি নির্মাণকাজের অনুমোদন, নকশা ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে অন্যত্র চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
স্থানীয় দোকানদারদের অভিযোগ, নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া ওপরের দিকে নির্মাণকাজ চলায় যেকোনো সময় ইট, বালু বা নির্মাণসামগ্রী নিচে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একাধিক দোকানদার বলেন, নির্মাণকাজ চলাকালে তারা আতঙ্কের মধ্যে থাকেন এবং দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে পাশের বাড়ির মালিক মো. শহীদ খানের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। শহীদ খানের অভিযোগ, আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নির্মাণকাজ চলায় তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির সি.এস., এস.এ., আর.এস. ও মহানগর জরিপের রেকর্ডে মো. শহীদ খান ও আলমগীর হোসেন গংয়ের নাম রয়েছে। তবে জমিটির বর্তমান মালিকানা ও ভবন নির্মাণের বৈধতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজউক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনটির অনুমোদন, নকশা, নির্মাণসীমা, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জমির কাগজপত্র যাচাই করুন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

