সড়ক আছে, কিন্তু নিরাপদ চলাচল নেই। দিনের আলোতেও আতঙ্ক, রাত নামলেই যেন ভয়ংকর এক মৃত্যুফাঁদ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ‘বাহর বাড়ি’ সংলগ্ন সড়কের এমন চিত্রে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাপের কামড়ে একজনের মৃত্যু ও আরেকজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এখন পুরো এলাকায় বিরাজ করছে উৎকণ্ঠা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, আবর্জনা ও ঝোপঝাড়ের কারণে সড়ক ও বিদ্যালয় এলাকার পেছনে তৈরি হয়েছে সাপের নিরাপদ আবাসস্থল। সম্প্রতি সড়কটিতে কিছুটা সংস্কারকাজ হলেও জলাবদ্ধতা ও পানিনিষ্কাশন সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে সংস্কারের পরও দুর্ভোগ কমেনি; বরং সাপের উপদ্রব নিয়ে নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশ ও বিদ্যালয়ের পেছনে জমে আছে পানি। কোথাও ঝোপঝাড়, কোথাও আবর্জনার স্তূপ। সন্ধ্যার পর সড়কটি ডুবে যায় ঘন অন্ধকারে। নেই পর্যাপ্ত সড়কবাতি। ফলে শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ও সাধারণ পথচারীদের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিক মিয়া বলেন, দিনের বেলাতেই ভয় লাগে। রাতে আলো না থাকায় মনে হয় জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হাঁটছি। এটা আর রাস্তা নেই, সাপের বাড়ি হয়ে গেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়কের বেহাল অবস্থা ও সাপের উপস্থিতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ও দায়সারা সংস্কারকাজের কারণে মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা ও পানিনিষ্কাশন রয়ে গেছে আগের মতোই।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
হোগলাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন শত শত শিশু যাতায়াত করে। বিদ্যালয়ের আশপাশেই সাপের আনাগোনা থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তিন দাবিতে এলাকাবাসী
পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত তিনটি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এগুলো হলো বিদ্যালয় ও সড়কের চারপাশের ঝোপঝাড়, আবর্জনা ও জমে থাকা পানি অপসারণ; অচল ড্রেন সংস্কার করে কার্যকর পানিনিষ্কাশন নিশ্চিত করা; এবং রাতের নিরাপদ চলাচলের জন্য দ্রুত সড়কবাতি স্থাপন।
এলাকাবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রকৌশলী ফজলে রাব্বির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, আরেকটি প্রাণহানির অপেক্ষা নয় এখনই হোগলাকান্দি বিদ্যালয় সড়কের জলাবদ্ধতা, অন্ধকার ও সাপের উপদ্রব থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি চান তাঁরা।

