ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভাষাসৈনিক, বিশিষ্ট আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রবীণ সংগঠক, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি, আলহাজ অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ আর নেই।
শনিবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেল রোডস্থ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ও ইন্না ইলাহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি স্ত্রী ৩ ছেলে ২ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের নামাজের জানাজা রোববার অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, মরহুমের প্রবাসী ছেলে দেশে আসার পর রোববার বাদ জোহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের টেঙ্কের পাড় মাঠে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরহুমের গ্রামের বাড়ি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে তার গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
এদিকে আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রেজা ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুদ্দিন জামি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্টাস ক্লাবের আহ্বায়ক পিযূষ কান্তি আচার্য ও সদস্য সচিব জাবেদ রহিম বিজন, আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন গভীর কবির শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য আলহাজ অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ ১৯৩১ সালের ১লা মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাওয় গ্রামের এক সভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম মুন্সী আমির হোসেন মৃধা। অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ ১৯৪৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রলীগের সক্রিয়কর্মী ছিলেন। ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন এবং মহান ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গ্রেপ্তার হন।
১৯৬০ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৮ সাল থেকে তিনি পাকিস্তান ন্যাপের জাতীয় পরিষদ সদস্য ছিলেন। তিনি ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ন্যাপ নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইরাক, ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইংল্যান্ড এবং ২০০১-২০০২ সালে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্র কানাডা ফ্রান্স ইতালি সফর করেন। তিনি হজও করেন। তিনি একাধিকবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টাউন ক্লাব, পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ, সাহিত্য একাডেমি, উদীচির উপদেষ্টা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নাগরিক কমিটি, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, দেওয়ান মাহবুব আলী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তার লেখা একাধিক ভ্রমণ কাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রয়েছে। ১৯৭৩ সালে এবং ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিভিন্ন সময়ে পুরস্কারসহ সম্মাননা পেয়েছেন।


