ঢাকাFriday , 12 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হারিস চৌধুরী কোথায়?

Link Copied!

Haris

সিলেট প্রতিনিধি :

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদার জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরী বর্তমানে কোথায় তা কেউ জানে না! ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দেশত্যাগ করার অর্ধযুগ অতিবাহিত হয়ে গেলেও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছে না। এমন কি তার আত্মীয়-স্বজনরাও জানেন না বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন।

একটি সূত্র জানায়, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আলোচিত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তিনি দেশে ফিরছেন না। বিশেষ করে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, চট্টগ্রামের দশট্রাক অস্ত্র মামলাসহ কয়েকটি আলোচিত মামলায় তার নাম আছে। তাই তিনি আত্মগোপনে আছেন। তবে আত্মগোপন করে তিনি কোথায়, কীভাবে আছেন, তা জানে না কেউ।

হারিস চৌধুরীর বর্তমান অবস্থান জানতে তার চাচাতো ভাই ও কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’

তবে মাঝে-মধ্যে হারিস চৌধুরীর ছেলে-মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয় বলে জানান তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সেনাসমর্থিত সাবেক ত্ত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ঝটিকা অভিযান শুরু করলে আত্মগোপনে চলে যান হারিস চৌধুরী। প্রথমে কিছুদিন হবিগঞ্জে আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর আসেন সিলেটে। সে সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের তালিকায় ওঠে আসে হারিসের নাম। তখনই দেশে ছেড়ে পালান তিনি।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ২০০৭ সালে ২৯ জানুয়ারি সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নানা বাড়ি ভারতের করিমগঞ্জে পাড়ি জমান হারিস। ভারত থেকে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান। এরপর সেখান থেকে ইরানে তার ভাই আবদুল মুকিত চৌধুরীর কাছে যান হারিস। আবদুল মুকিত সেখানকার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। এরপর মালোয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র হয়ে আবার ফিরে যান যুক্তরাজ্যে। কিন্তু বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যেই অবস্থান করছেন কিনা তা কোনো সূত্র থেকেই নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হারিস চৌধুরীর এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ব্যারিস্টার ও ছেলে নরওয়ে ভিত্তিক একটি তেল কোম্পানিতে কর্মরত। ওয়ান ইলেভেনের আগে স্ত্রী-সন্তানরা সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন। এরপর তারাও আর দেশে আসেনি।

উল্লেখ্য, হারিস চৌধুরী ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর তিনি সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম কমিটির সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় যুবদলের সেক্রেটারি, সহ সভাপতিসহ, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলে হারিস তার রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

সে সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সিলেটের কানাইঘাটের নিজ বাড়িতে ডাকঘর, স্কুল, পুলিশ ক্যাম্প ও ব্যাংকের শাখা বসিয়েছিলেন হারিস চৌধুরী। বাড়িতে গড়ে তুলেছিলেন মিনি চিড়িয়াখানা। সিলেটের ‘হাওয়া ভবন’ হিসেবেই পরিচিত ছিল তার বাড়ি। ২০০৭ সালে দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারির পর তার বাড়ি থেকে পাঁচটি বন্য হরিণ উদ্ধার করে বনবিভাগ। বর্তমানে ওই বাড়িটি প্রায় জনশূন্য।