ঢাকাTuesday , 21 October 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোটালীপাড়ায় ২২ ফুট খালে ৭৪ ফুট ব্রিজ নির্মাণ,
ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

Link Copied!

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ২২ ফুট প্রস্থের ছোট এক খালে নির্মিত হচ্ছে ৭৪ ফুট গার্ডার ব্রিজ। এদিকে ব্রিজ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দরখাস্ত দিয়েছে এলাকাবাসী।
অভিযোকারীরা জানান, পবনার পাড় গ্রামে গ্রামীণ সড়কে ব্রিজ নির্মাণের জন্য পাইল তৈরিতে রিং কম দেওয়া সহ নানা অনিয়ম হয়েছে এবং পাইলের অর্ধেক মাটিতে পুঁতে বাকি অর্ধেকের পাইলের রড কেটে বিক্রি করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে গোপালগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প (২য় সংশোধিত) এর আওতায় উপজেলার মান্দ্রা খেয়াঘাট থেকে বাপার্ড জাঠিয়া সড়কের ৬ হাজার ৫০ মিটার চেইনেজে ২ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২২ ফুট প্রস্থের পবনার পাড় খালে ৭৪ ফুট (২২ মিটার) আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ পায় মেসার্স সৌরভ ট্রেডার্স।
নির্মীয়মান ব্রিজের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এলাকাবাসী বারবার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে অভিযোগ জানানোর পরও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় অভিযোগ দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিজ নির্মাণে কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। ঠিকাদারের লোকজন নির্মীয়মাণ পাইলিং থেকে রড খুলে বিক্রি করছে। পাইল তৈরিতে নেওয়া হয়েছে দুর্নীতির আশ্রয়। পাইলে নিম্নমানের পাথর, অর্ধেক পরিমাণ রিং ও পরিমানের চেয়ে কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। যার কারণে মাটির নিচে অর্ধেক পাইল ঢুকতেই বাকি অংশ ভেঙে পড়ছে। পরবর্তীতে ঠিকাদারের লোকজন বাকি অর্ধেক পাইলের রড কেটে বিক্রি করছে।
পবনার পাড় গ্রামের কলেজ ছাত্র রকিবুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটির এসব অনিয়মের বিষয়ে ঠিকাদারের লোকজনকে বললে তারা নিয়মমতো কাজ করছেন বলে বুঝিয়ে দেয়। অন্যদিকে বেশি বাড়াবাড়ি করলে চাঁদাবাজি মামলারও ভয় দেখায়। এ বিষয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের লোকদের বললেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ইঞ্জিনিয়ার অফিসের সঙ্গে যোগসাজশ করেই ঠিকাদাররা এই দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছে। গত ৭ অক্টোবর ব্রিজ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ইউএনওর নিকট আবেদন করা হয়েছে।
নির্মাণাধীন ব্রিজ সংলগ্ন বাসিন্দা মফিজুল বলেন, মানুষের হাটা-চলাচলের জন্য জাঠিয়া থেকে রাধাগঞ্জ গ্রামীণ এলাকায় শৈলদা নদীর পাড়ে মাটির রাস্তা হচ্ছে। সেই রাস্তায় ৬টি সরু খালে ব্রিজ নির্মাণ করছে এলজিইডি। পবনার পাড়ের ২২ ফুট খালটিতে এলজিইডি ২২ মিটার (৭৪ ফুট) ব্রিজ নির্মাণ করছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে। ছোট খালে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার এক একটি কালভার্ট দিলেও হতো, সেখানে ৩ কোটি টাকার বিশাল গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে কখনও বাস-গাড়ি চলাচলের সুযোগ নেই। তাহলে এতো বড় ব্রিজ কাদের স্বার্থে? অন্যদিকে এই ব্রিজ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। এভাবে ব্রিজ হলে তা কতদিন টেকসই হবে? এলজিইডি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্যাপক অনিয়ম করছে।
সরেজমিনে ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, ব্রিজের পাইল গাড়ার কাজ চলছে। ৬৪টি পাইলের ৬০টি স্থাপন করা হয়েছে। তবে প্রত্যেকটি পাইলের অর্ধেক মাটির নিচে ঢুকানোর পর বাকি অর্ধেক পাইল কেটে রড বের করছে ঠিকাদারের লোকজন। পাইলের রড কাটার জন্য ৩ জন শ্রমিক কাজ করছেন। আনোয়ার সরদার নামের এক শ্রমিক বলেন, তিনি খুলনা থেকে এসেছেন, তার সঙ্গে আরও দুজন রয়েছেন। তাদের কাজ মাটির উপরের থাকা পাইলের রড বের করে আলাদা করা।
ব্রিজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মোঃ মুরসালিন সৌরভের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান।
এদিকে কাজের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে পবনার গ্রামের মামুন শেখ বলেন, গত বছরের ১৬ অক্টোবর ব্রিজের কাজ শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখে। অথচ নির্মাণ কাজের ১০ ভাগ এখনও সম্পন্ন হয়নি।
কাজের অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম বলেন, ব্রিজের পাইল থেকে রড কেটে নেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবে। ব্রিজের নির্মাণ মেয়াদ শেষ হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, ব্রিজের অনিয়মের অভিযোগটি উপজেলা প্রকৌশলীকে দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।