পূর্ব ইউক্রেন থেকে রাশিয়া তাদের বেশিরভাগ সেনা সরিয়ে নেয়ায় দেশটিতে গত পাঁচ মাস ধরে চলা লড়াই বন্ধের একটি সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বুধবার সে দেশের প্রেসিডেন্ট প্রেট্রো পেরোশেনকো এ কথা জানিয়েছে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যকার ওই লড়াইয়ে ইতিমধ্যে তিন হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে।
বুধবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেনকো বলেন, শুক্রবার ইউক্রেইন এবং রুশপন্থি বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এ শান্তির রোডম্যাপের আওতায় ইউক্রেনে একটি সার্বভৌম এবং অবিভক্ত রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে পারবে। তিনি পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন।
বুধবার পোরোশেনকো বলেন, ‘গোয়েন্দাদের কাছ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকা থেকে ফিরে গেছে ৭০ শতাংশ রুশ সেনা। এতে করে শান্তি উদ্যোগ শুভ ফল বয়ে আনার ব্যাপারে আমাদের আশা আরো বেড়ে গেছে।’
তবে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা’ অনবরত কিয়েভ বাহিনীকে উস্কানি দিতে থাকায় যুদ্ধবিরতি রক্ষা করাটা খুব সহজ হচ্ছে না।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী পূর্বঞ্চলের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ছয়টি অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘণের অভিযোগ করেছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইউক্রেন বলছে, অস্ত্রবিরতি চলাকালে বিদ্রোহীদের হামলায় পাঁচ সেনা নিহত হয়েছে।
টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেরোশেনকো বিদ্রোহীদের প্রতি সমঝোতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেতস্ত ও লুহানস্ক অঞ্চল দুটিকে বিশেষ মর্যাদা দেবে তার সরকার। আগামী সপ্তাহে তিনি পার্লামেন্ট এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপণ করবেন বলেও জানিয়েছেন। তবে ওই দুটি অঞ্চলে বিদ্রোহীদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি অগ্রাহ্য করে পেরেশেনকো বলেন, এ ধরণের দাবি কখনোই মেনে নেয়া হবে না। কেননা এ ধরণের ফেডারেল তৈরি হলে তারা রাশিয়ার স্বার্থে কাজ করবে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।


