বিয়ে যেন নেশায় পরিণত হয়েছে শারমিনের। বয়স ৩২ এ পর্যন্ত বিয়ে ১১ টি। ধনী কিংবা প্রবাসী বিবাহিত ও অবিবাহিত ছেলেরা তার টার্গেট। প্রতিবছরে স্বামী পাল্টানোর খবর পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। আর এভাবে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। খাতা কলমে শারমিনের বিয়ে প্রতারণার সর্বশেষ শিকার বাগেরহাট চিতলমারীর দক্ষিণ শৈলদাহ এলাকার নওশের শেখের মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলে খুরশিদ আলম (৩৫)। শারমিন আক্তার বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গাওলা গ্রামের আছাদ মোল্লার মেয়ে। শারমিনের বিয়ের তালিকায় রয়েছে ঢাকার গাজীপুর জেলার খলিল আহমেদ, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার আলমগীর হোসেন, ঢাকার নারায়ণগঞ্জের জালাল আহমেদ, বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার মো. মুরাদ হোসেনসহ অন্তত ১১ জন।বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, শারমিন নিজের বাবার বাড়ি কিংবা কোন স্বামীর বাড়িতে থাকেন না। ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গোপনে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন ।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শারমিনের সাথে একটি চক্র রয়েছে। আর এই চক্র প্রধান তার এক কথিত চাচা। চক্রটি শারমিনকে বিয়ে দেওয়ার সময় অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত থাকে কথিত চাচা । বিয়ের কয়েক দিন যেতে না যেতেই শারমিন স্বামীর সাথে ঝামেলা সৃষ্টি করে।কথিত চাচার কাছে অভিযোগ করলেই চাচা সালিশের ব্যবস্থা করেন এবং বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতে থাকে। সর্বশেষ চাচার সালিশে দেনমোহর খোরপোষ পরিশোধের মাধ্যমে শেষ হয় এক একজন পুরুষের স্বপ্ন। সর্বশেষ প্রতারণার শিকার চিতলমারির শৈলদাহ এলাকার নওশের শেখের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী খুরশিদ আলম। জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৫ জুন রেজিস্ট্রি কাবিন মূলে বিবাহ হয় শারমিনের সাথে। বিবাহের তিন মাসের মধ্যেই শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। প্রকাশ পায় তার পূর্বের স্বামীদের তালিকা ও পরিচয়। এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সে মামলা-মোকদ্দমা সহ প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। প্রবাসী খুবশীদ আলমের কাছ থেকে মালয়েশিয়া থাকাকালীন সময়ে ২০ লক্ষ এবং দেশে আসার পর ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই শারমিন। ঘটনার বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে প্রবাসী খুরশিদ আলমের বাবা।
শারমিনের প্রাক্তন কয়েকজন স্বামীর সাথে কথা বললে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, সে (শারমিন) আমাদের পথে বসিয়ে দিয়ে গেছে। এত বড় প্রতারণার ফাঁদ বিছিয়ে রাখে যা থেকে বের হওয়ার কোন উপায় নেই। তার মা এবং কথিত চাচা দুজন তার সহযোগী। তাদের সহযোগিতায় শারমিন বারবার স্বামী পরিবর্তন করে স্বামীদের তালাক দিয়ে দেনমোহরের টাকা আদায় করে। এই নারী ও তার সহযোগীরা খুবই ভয়ঙ্কর।
এসব ঘটনার বিষয়ে শারমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে কয়েকটি বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি তবে তারা সবাই আমার সাথে প্রতারণা করেছে। তারা এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলছে। তাদের কারো কাছ থেকে আমি কোন টাকা পয়সা আত্মসাৎ করি নাই ।

