ঢাকাTuesday , 24 February 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাট বাঁচাতে ‘দালাল’ ঠেকাবে সরকার

Link Copied!

Juteনিজস্ব প্রতিবেদক : পাটখাতে মধ্যস্বত্বভোগী ঠেকাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এ জন্য আগামী পাট মৌসুমের শুরুতেই সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পাট কেনা হবে- যাতে দালাল, ফড়িয়া কিংবা অসৎ ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে অধিক মুনাফা পকেটস্থ করতে না পারে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ কথা জানা গেছে।
এ সম্পর্কে  বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, ‘বিজেএমসির অব্যাহত লোকসান ঠেকাতে আগামীতে পাট কাটার মৌসুমের শুরু থেকেই পাট কেনা হবে। এর ফলে কৃষকরা যেমন পাটের ন্যায্য মূল্য পাবে, তেমনি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্মও কমবে। এছাড়া পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন বাস্তবায়নে শিগগির সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী মৌসুমের শুরুতেই পাট কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান করা হবে।’
এদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রথম দফায় ২০০ কোটি টাকা এবং পরবর্তী দফায় পাট শিল্পে সহায়তা প্রদানের জন্য বিশেষ করে কৃষকদের কাছ থেকে পাট কেনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের অধীনে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন মিলগুলোর জন্য ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
আমাদের দেশে সাধারণত জুন-জুলাইয়ে পাট উৎপাদনের মৌসুম শুরু হয়। কিন্তু এ সময় সরকারি অর্থ ছাড় করতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। এ সুযোগে দালাল, ফড়িয়া এবং অসৎ ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে পাট কিনে জমা করে। এরপর যখন সরকার নির্ধারিত মূল্যে পাট ক্রয় করে তখন তারা সেখানে পাট সরবরাহ করে। ফলে লাভের অংশটা তারাই পায়। কৃষকেরা বঞ্চিত হয়।
কৃষকেরা যাতে লাভ থেকে বঞ্চিত না হয় এবং তারা যাতে সরকার নির্ধারিত মূল্য পায় সে লক্ষ্যে মৌসুমের শুরুতেই কৃষকের কাছ থেকে পাট কিনতে যাচ্ছে সরকার।
প্রায় ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকার দায়দেনা পরিশোধ করে বিজেএমসির ৫টি বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুকরাসহ মৃতপ্রায় পাটশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর ফলে গত ৬ বছরে বিজেএমসির পাটকলগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছরই ক্রমান্বয়ে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় শুধু বিজেএমসির পাটকলগুলোতে বর্তমানে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার।
পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম মোড়ক ব্যবহারজনিত কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণের অপূরণীয় ক্ষতির হাত থেকে দেশের প্রায় ১৬ কোটি মানুষকে রক্ষার লক্ষ্যে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা, ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ আইন কার্যকর হয়েছে। ওই আইনের আওতায় ধান, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও সার মোড়কের ক্ষেত্রে পাটজাত মোড়কের/পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় খাদ্য অধিদপ্তর, খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান পণ্যের মোড়কে পাটের বস্তা ব্যবহার করছে। গ্রাহকদের চাহিদা মাফিক পাটের তৈরি ব্যাগের সরবরাহ সহজীকরণ ও নিশ্চিতকরণের জন্য বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের বিভিন্ন মিল গেট ও বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে সরাসরি সরবরাহের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে।
২০০৮-০৯ অর্থ বছরে বিজেএমসির মিলগুলোতে পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৭  হাজার টন। ২০০৮-০৯ বছরকে ভিত্তি ধরে এর তুলনায় পরবর্তী বছরগুলোতে উৎপাদনের তুলনামূলক চিত্র হলো ২০০৯-১০ অর্থ বছরের উৎপাদন ১ লাখ ৪৪ হাজার টন। উৎপাদন বৃদ্ধি ৩৬ শতাংশ। ২০১০-১১ অর্থ বছরের উৎপাদন ১ লাখ ৬৬ হাজার টন। উৎপাদন বৃদ্ধি ৫৫ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থ বছরের উৎপাদন ১ লাখ ৭৬ হাজার টন। উৎপাদন বৃদ্ধি ৬৪ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থ বছরের উৎপাদন ১ লাখ ৮৯ হাজার টন। উৎপাদন বৃদ্ধি ৭৬.৬৪ শতাংশ।
২০০৮-০৯ অর্থ বছরে বিজেএমসির পাটজাত পণ্য রপ্তানি আয় ছিল ৪৩৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ২০০৯-১০ অর্থ বছরের রপ্তানি আয় ৬৫৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে আয় বৃদ্ধি ৫২ শতাংশ। ২০১০-১১ অর্থ বছরের রপ্তানি আয় ৯৪৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা। বৃদ্ধি ১১৯ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থ বছরের রপ্তানি আয় ১০৫৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে আয় বৃদ্ধি ১৪৫ শতাংশ। ২০১২-১৩ অর্থ বছরের রপ্তানি আয় ১৩৬৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আয় বৃদ্ধি ২৪১.১১ শতাংশ।