মোংলায় সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হয়েছেন মোংলা-রামপাল (বাগেরহাট-৩) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী চার আওয়ামী লীগ নেতা। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
সোমবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে মোংলা বন্দর শ্রমিক সংঘ চত্বরে কৃষক লীগের ব্যানারে জাতীয় শোকসভায় এ তথ্য জানান তারা। পরে দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন: সাবেক রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মো. আবু সাইদ, মোংলা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী ইজারাদার, চিত্রনায়ক ও আওয়ামী লীগ নেতা শাকিল খান, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. আবু হানিফ।
বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায়ে দুর্বল করে রাখার জন্য পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহারকে দায়ী করে মনোনয়নপ্রত্যাশী শেখ আবু সাইদ বলেন, আসনটি স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নৌকা নিয়ে নির্বাচিত হয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে এখানকার আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করে রেখেছেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে দুর্বল করে এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের লোকদের দলে ঢুকিয়ে এলাকার সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। এ সুযোগে উন্নয়নের কথা বলে কাজ না করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাই আওয়ামী লীগকে পুনরায় সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে সব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।
মনোনয়নপ্রত্যাশী খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শেখ আবু হানিফ ও ইদ্রিস আলী ইজারাদার বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের লোকজন মিলেমিশে বসবাস করে এলেও বর্তমানে এখানে রাজনৈতিকভাবে দক্ষ নেতৃত্বের অভাব দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীসহ সব শ্রেণি-পেশার লোকই এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ১০ বছর ধরে আসনটির প্রত্যেকটি পাড়া-মহল্লায় গিয়ে দলীয় তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ এলাকার লোকজনের কাছে গিয়ে দেখেছি দল ক্ষমতায় থাকার পরও তারা কতটা অসহায়। সময় এসেছে পরিবর্তনের। কেননা পূর্ণাঙ্গভাবে শক্তিশালী না হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনা কষ্টকর হবে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না থাকলে আমাদের অস্তিত্বই থাকবে না।
মোংলা-রামপালের মনোনয়নপ্রত্যাশী চিত্রনায়ক শাকিল খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে ছিলাম। বেশ কয়েকবার বলেছি, মোংলা-রামপাল আসনটি পরিবর্তন করুন। নেতাকর্মীরা আজ অসহায়। এরকম চলতে থাকলে তারা কিন্তু এ দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। আজ আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি এবং অঙ্গীকার করেছি পরিবর্তনের।
মোংলা উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি শাহজাহান ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি এইচ এম মিলন শিকারী, জেলা পরিষদের সদস্য সিকদার জলিল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সরদার ইয়াসিন আরাফাত, সাধারণ সম্পাদক মো. সজিব, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এমরান বিশ্বাস, সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকরাম ইজারাদার, উদয় সংকর বিশ্বাস, উৎপল মণ্ডল, বাগেরহাট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও রামপাল বাসতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল।
এ ছাড়া যুবলীগ নেতা মো. সাদ্দাম হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা শারুপ বাপ্পি, রাসেল, শেখ আল-মামুন, মুশফিকুর রহমান সাগর, লিটন হোসেন নিরবসহ বর্তমান রাজনৈতিক দলীয় বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ প্রায় ৫০ হাজার স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে ১৯৯৬ সাল মোংলা-রামপাল আসনে খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুক খালেকের পরে তার সহধর্মিণী এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। তিনি বর্তমানে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

