ঢাকাThursday , 24 August 2023
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৫৮ বছরেও সংস্কার হয়নি অধিকাংশ পাউবোর ব্রিজ

Link Copied!

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীবিধৌত জেলা ঝিনাইদহ। কপোতাক্ষ, নবগঙ্গা, গড়াই, কুমার, বেগবতী, ইছামতি, চিত্রাসহ বেশ কয়েকটি নদ-নদী বয়ে গেছে এ জেলার মধ্য দিয়ে, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য খাল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব মতে, তাদের সেচ প্রকল্পের আওতায় জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা খালগুলোর সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৫২০ কিলোমিটার। যেগুলোর ওপর ১৯৬৫ সালে নির্মিত হয় বহু ছোট ও মাঝারি ব্রিজ। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে বিগত ৫৮ বছরে আর কখনো সেদিকে নজর দেয়নি পাউবো। যার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এ জেলায় বসবাসকারী প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো মানুষকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বছরের পর বছর সংস্কারহীন পড়ে থাকতে থাকতে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে পাউবোর আওতাধীন ব্রিজগুলো।
বিগত কয়েক বছরে ভেঙে গেছে বেশ কয়েকটি ব্রিজ, কোনোরকমে দাঁড়িয়ে আছে খালের বুকে। স্থানীয়দের ক্ষোভ, ভাঙা ব্রিজগুলোর জায়গায় নতুন ব্রিজ তো দূরের কথা, কোনোরকম সংস্কারের কোনো উদ্যোগ আজ পর্যন্ত নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনকি নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বহুবার তদবির করেও কোনো ফল মেলেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, পাউবোর আওতাধীন ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলো পার হতে গিয়ে এখন অহরহ ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা। ছোট-বড় যানবাহন চলাচল ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার সময় প্রায়ই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে নদীবিধৌত এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডু উপজেলার বেলতলা, হরিশপুর, শ্রীপুর, ধুলিয়া, রামনগর, কুলবাড়ীয়া, সাতব্রিজ আন্দুলিয়া, পোলতাডাঙ্গা, চটকাবাড়ীয়া, পার্বতীপুর, কালাপাড়ীয়া, পোড়াহাটি, মান্দিয়া, চড়পাড়া ও শুড়া গ্রামসহ অনেক এলাকায় ব্রিজ ভেঙে গেছে প্রায় ১৫ বছর আগে। গ্রামগুলোর কৃষকদের মাঠ থেকে ফসল আনতে হলে তাই ঘুরতে হয় প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ। অনেক জায়গার বাসিন্দারা আবার নিজ উদ্যোগে তাদের এলাকার ব্রিজগুলো কাঠ ও বাঁশ দিয়ে মেরামত করে কোনোমতে চলাচল করছেন। জোড়াদহ, ফসলি, রঘুথানপুর, তাহেরহুদা চার ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ হরিনাকুণ্ডু উপজেলায় এসব পথে যাতায়াত করলেও ব্রিজগুলো সংস্কারে নেওয়া হচ্ছে না কোনো উদ্যোগ। উপজেলার ফুলবাড়ীয়া গ্রামের ব্রিজটি ভেঙেছে দেড় বছর আগে। ব্রিজের মাঝখানে বড় ছিদ্র হওয়ায় পারাপার হচ্ছে না কোনো যানবাহন। কোনোমতে ভ্যান, মোটরসাইকেল পার হলেও প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
হরিনাকুণ্ডুর মতো পার্শ্ববর্তী শৈলকুপার উপজেলার গোলকনগর, শহীদনগর, কাতলাগাড়িসহ সদরের অধিকাংশ ব্রিজেরও একই দশা। ব্রিজগুলো ভেঙে যাওয়ায় ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
সরেজমিন ঘুরতে গিয়ে কথা হয় হরিনাকুণ্ডু উপজেলার জোড়াদাহ ইউনিয়নের বেলতলা গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠ থেকে ফসল আনতে পারছি না, প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর ধরে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে আছে। এতগুলো বছর হয়ে গেল অথচ আমাদের দুর্ভোগ যেন দেখে না কেউ। মাঝেমধ্যে কিছু লোকজন এসে আমাদের কথা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। আমাদের এখানে মান্দিয়ার একটা বড় বাজার আছে। সেখানে ধান-পাটসহ বিভিন্ন ফসল বিক্রি করার জন্য প্রায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়।’
রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট নুরুল আজিজ বলেন, ‘আমাদের এলাকার পাউবোর খালের ওপর বেশ কয়েকটি ব্রিজ রয়েছে। যার মধ্যে মান্দিয়া, পোড়াহাটি ও চরপাড়া ব্রিজের অবস্থা বড় নাজুক। ভাঙাচোরা ওইসব ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইদানীং। প্রতিনিয়তই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। অনেকে ভিন্ন পথ দিয়ে ঘুরে যাতায়াত করেন। ব্রিজ ভাঙা হওয়ায় কৃষকরা মাঠ থেকে ফসল আনতে পারেন না। এটা ছাড়াও আশপাশের প্রায় প্রতিটি ব্রিজই ভাঙা। এলাকার মানুষের আর কোনো উপায় না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব ব্রিজ দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জোড়াদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবু মিয়া জানান, ‘তার ইউনিয়নের বেলতলা-সড়াতলা ও হরিশপুর-কুলবাড়ীয়া ব্রিজের খুবই করুণ অবস্থা। ব্রিজ দুটির বেহাল দশার কারণে ইউনিয়নের মানুষদের পাশর্^বর্তী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার জন্য সাতব্রিজ হয়ে যেতে হয়। যার জন্য অতিরিক্ত ৪-৫ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়।’
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকীর মাধ্যমেও অনেক তদবির করেছি। কিন্তু এলাকার মানুষের দুঃখ লাঘবের জন্য এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হয় ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হানের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইদহ অঞ্চলে প্রধান, সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারী মিলে ৫২০ কিলোমিটার খাল রয়েছে। যে খালগুলোর ওপর ১৯৬৫ সালে ব্রিজগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। সমস্যা সমাধানের জন্য ওপর মহলে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ব্রিজগুলো মেরামত ও পুনর্নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে