ঢাকাWednesday , 29 September 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে চাষ হচ্ছে ত্বীন ফল

Link Copied!

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথমবারের মত ব্যক্তি উদ্যোগে ত্বীন ফলের চাষ শুরু হয়েছে। এ ফলটি ঔষুধি গুণ সম্পন্ন এবং স্বাদে মিষ্টি- এমনই বর্ণনা রয়েছে পবিত্র কোরআনে। এ ফলের রয়েছে ব্রেস্ট ক্যান্সার রোধ ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিকারের গুণ।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও’র পরিচালক (প্রশাসন) সেলিমা আক্তার নামের একজন নারী উদ্যোক্তা সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকায় এ বছর ১ একর জমিতে মরুভূমির ত্বীন ফল চাষ করে সফল হয়েছে। পরীক্ষামূলক চাষে সফল হওয়ার পর কৃষক পর্যায়ে বাণিজ্যিক চাষ ছড়িয়ে দিতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাগানে কর্মরত শ্রমিক আলমগীর হোসেন। এদিকে প্রথমবারের মতো ডুমুর আকৃতির ত্বীন গাছে ফল আসতে শুরু হওয়ায় দৃষ্টি কেড়েছে স্থানীয়দের।

বাগান দেখতে আসা শহরের হাজিপাড়া মহল্লার রুবেল রানা ও শাহিন আলম নামে দুই ব্যবসায়ী বলেন, আরব দেশ মরুভূমির ফল এখন নিজ এলাকায় চাষাবাদ হচ্ছে। তাই ফলটি দেখার আগ্রহ নিয়ে ছুটে এসেছি। যে ফলটির কথা পবিত্র কোরআনের সুরা ত্বীন-এ উল্লেখ রয়েছে। বাগানে এসে মূল্যবান এই ফলটি দেখতে পেয়ে অনেক ভালো লাগল।

গোবিন্দনগর এলাকার স্কুল শিক্ষক এন্তাজ উদ্দিন বলেন, এলাকায় এবারই প্রথম চাষ হওয়া ত্বীন ফল তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকের আগ্রহ বাড়িয়েছেন। তিনি নিজেও ত্বীন ফল চাষাবাদের কথা ভাবছেন। একই এলাকার সাদেকুল ও শফিকুল নামে দুই যুবকও জানিয়েছেন এমন আগ্রহের কথা।

তাঁরা বলেন, ঔষুধি গুণসম্পন্ন এ ফলের বাগান করার ইচ্ছা আছে তাঁদের। বাগান দেখার পাশাপাশি বাগানে কর্মরত আলমগীরের কাছ থেকে ত্বীন ফল চাষের নিয়ম ও পদ্ধতিও শিখে নিচ্ছেন তারা।

ইএসডিও প্রকল্প সমন্বয়ক আইনুল হক জানান, গত বছরের শেষের দিকে ভারত থেকে মিশরীয় জাতের ত্বীন ফলটির গাছ নিয়ে আসা হয়েছে। ঐ বছর ১ একর জমিতে এই গাছগুলো রোপণ করা হয়। চারা রোপণের কয়েক মাসের মধ্যে ফল আসতে শুরু করে। প্রতিটি গাছে এখন ৭০-৮০টি করে ফল ধরেছে। গাছটির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর ফলও অনেক বেশি ধরবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ত্বীন শুষ্ক ও শীত প্রধান দেশে চাষ হলেও আমরা এই জেলাতে প্রথম প্রমাণ করেছি নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুতেও এ ফল উৎপাদন সম্ভব। ত্বীন ফলটির প্রসার বৃদ্ধিতে ইএসডিও কৃষি ইউনিটের একটি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে এটি আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করে এ গাছের কলম তৈরির মাধ্যমে যেনো সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারি সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।

বাগানের কর্মরত শ্রমিক শফিকুল জানান, ত্বীন গাছটিতে কোন রকম রাসায়নিক সার দেয়া হয়নি। জৈব ও কম্পোজড সার মিশিয়ে গোড়ায় দিয়েছি। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো বড় হয়ে উঠেছে। এ সময়ে তেমন কোন রোগবালাই দেখা যায়নি। রোপণকৃত গাছগুলোর মাটি বেলে ও দোঁয়াশ মাটির সংমিশ্রণ হলেও আবহাওয়ার সঙ্গে এখন মানিয়ে নিয়েছে ত্বীন।

ইএসডিও পরিচালক (প্রশাসন) সেলিমা আক্তার জানান, শখের বসে এই পবিত্র ফলের চারা রোপণ করা হয়েছিল। প্রথম বছরে আশানুরূপ ফলনও হয়েছে। এখন বাণিজ্যিকভাবে চারা উৎপাদন ও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ চলছে। ত্বীন গাছটির বীজ থেকে চারা উৎপাদনের হার কম হওয়ায় নির্ভরতা করতে হচ্ছে কাটিং বা কলম চারায়। যে কারণে কয়েক বছর পর বীজের চারায় ফলন আসে।

অন্যদিকে কলম চারায় ফল আসে মাত্র ৬ মাসে। এই উদ্যোক্তা আরও বলেন, বাংলাদেশ ছাড়াও বিদেশে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সম্ভবনাময় এই ফলটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা গেলে দেশে বেকারত্বের হার কমে আসবে। একই সঙ্গে রপ্তানির মাধ্যমে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আবু হোসেন বলেন, বেসরকারিভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে এই প্রথমবার ত্বীন চাষ করা হচ্ছে। ত্বীন বা ডুমুর ফলের বাগানটিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারীগণ নিয়মিত পরিদর্শন করে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন।

কোনো রকম রাসায়নিক কীটনাশক সার ছাড়াই ত্বীন ফল চাষ করা সম্ভব। ডুমুর ফলটি সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। এর পাতা গো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলে দুগ্ধ জাতীয় গাভী থেকে অনেক বেশি পরিমাণ দুধ পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও এর পাতা পুকুরে গুড়ো করে ছিঁটিয়ে দিলে পানি বিশুদ্ধ থাকে।

দেশের বাজারে এই গাছগুলোর দাম বেশি হওয়ায় কৃষকদের অনাগ্রহ তৈরি হতে পারে। সরকারিভাবে এই গাছের চারা বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে দেয়ার বিষয়ে আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাব। বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় এই ফলের চাষ কৃষকরে মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে এক সময় বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তা।

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপতালের আয়ুর্বিদিক চিকিৎসক ডা. জিপি সাহা বলেন, ডুমুর বা ত্বীন জাতীয় এ ফলটিতে রয়েছে ৭০ প্রকারের ভেজষ গুণ। তবে মূলত এই ফলের প্রধান উপকারিতা হচ্ছে এটি ডায়বেটিকস রোগীদের জন্য এক মহাঔষধ। ডুমুরের ফল সবজি হিসেবে খেতে আমরা রোগীদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। এ ছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীরে মেদ কমানো, উচ্চ রক্তচাপ, ব্রেস্ট ক্যান্সার, শরীরে হিমোগ্লোবিন ঠিক রাখা, মানসিক ক্লান্তি দুর করা সহ অনেক রোগ নিরাময়ে এই ফলটি সহায়তা করে।