নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কোথাও কোথাও পটকা ফাটাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও ঝটিকা মিছিল করছে, তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের করণীয়’ বিষয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আজকে আমরা যখন ফারাক্কার বিরুদ্ধে তিস্তা ব্যারেজ করতে যাচ্ছি চায়নার সহযোগিতায়। আমাদেরকে বর্ষাতে প্লাবনে মারবে, আমাদেরকে খরা মৌসুমে খরা দিয়ে মারবে। আমাদের সুরমার পানিকে আটকে সিলেটকে উজাড় করে দেবে, আমরা তা হতে দিতে পারি না। আমরা চায়নার সহযোগিতায় তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ করতে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর ভয়ে সকাল সাড়ে ৮টার আগে অফিসে যাই, তার ভয়ে রাত সাড়ে ৮টার পরে বাসায় ফিরি—এই যে একটা অনুপ্রেরণা। আমরা যখন যাই, তাহলে সচিবসাহেবরাও আসতে বাধ্য, অন্যান্য কর্মকর্তারাও আসতে বাধ্য। এই যে একটা নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে প্রশাসনিক কাঠামোতে, এই যে কর্মযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে সারা দেশব্যাপী। দুর্নীতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, উন্নয়ন সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। আমরা পরনির্ভরশীলতাকে বাদ দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কোথাও কোথাও পটকা ফাটাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও ঝটিকা মিছিল করছে, তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ তাদের বাংলাদেশের রাজনীতি করা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নির্দেশ নিয়ে এসেছি, কাউকে এ মানিকগঞ্জের মাটিতে সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রম করতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, আদানি আমাদের বিদ্যুৎ দিত, আমাদের বিদ্যুতের ঘাটতি করার জন্য, জনমনে রোষের সৃষ্টি করার জন্য আমাদের বিদ্যুৎ দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে অর্ধেক। আমরা কোনো সারের ডিলার বাতিল করিনি, কারণ আমাদের হিংসা নেই। কিন্তু তারা কি সেই ঈমান রক্ষা করেছে? সারের ডিলাররা সার চোরাই পথে বিক্রি করে দিয়েছে। কঠিন ক্রাইসিস সৃষ্টি করেছিল, আমরা সেগুলো কঠোর হস্তে দমন করেছি। এখন আমাদের অধিক সার মজুত আছে, কোনো উপজেলায় সারের ঘাটতি নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ, গ্যাস নেই। তারা আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করেছিল চমক দেখানোর জন্য গ্যাস দিয়ে। বঙ্গোপসাগরে বামদিকে মিয়ানমার গ্যাস তুলছে, প্রচণ্ড গ্যাসের ভান্ডার বঙ্গোপসাগরের নিচে। ডানদিকে ভারত গ্যাস তুলে নিয়ে যাচ্ছে, আমাদের গ্যাস নিচ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা দেখেননি ফ্যাসিস্টরা, কারণ তাদের গুরুজনরা রাগ করবেন—ভারতরা। এ জন্য তোলেননি। এ জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলি, আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান আন্তর্জাতিক মহলে আলাপ করে বঙ্গোপসাগরের নিচ থেকে গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা করেছেন। সেই গ্যাস দিয়ে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করব, ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আমাদের কয়লা নেই। কুইক রেন্টাল করেছে, চুরির রেন্টাল করেছে। কোটি কোটি টাকা মারার জন্য তারা কুইক রেন্টাল করেছিল। সেই কুইক রেন্টাল কোথায় আজকে? বিদ্যুৎ তৈরি করবে না, লক্ষ লক্ষ ডলার। আমাদের সন্তানেরা বিদেশ গিয়ে উপার্জন করে। সেই ডলার দিয়ে তাদের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে। এগুলো ছিল দুর্নীতি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূরতাজ আলম বাহার ও গোলাম কিবরিয়া সাঈদ। জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা এ মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে মানিকগঞ্জ জেলাশহরে বিক্ষোভ মিছিলেও অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

