নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর পত্নীতলায় ‘শেখ রাসেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ যাতায়াতের কোন রাস্তা না থাকায় ভোগান্তীতে পড়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। গ্রামের সরু আইল’ই যাতায়াতে একমাত্র ভরসা। বিদ্যালয়টি উপজেলার নজিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড নাদৌড় গ্রামে অবস্থিত। শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে দ্রুত রাস্তার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ২০১২ সালে শেখ রাসেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। বর্তমানে সবশ্রেনী মিলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬১ জন। বিদ্যালয়ের তিন পাশে ধান ক্ষেত এবং এর পাশেই রয়েছে একটি পুকুর। পুকুরের পাশ দিয়ে সরু চিকন আইল থাকলেও পুকুর গর্ভে বিলীনের পথে। প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে কোমলমতি শিশুদের যাতায়াতের জন্য এখন পর্যন্ত কোন রাস্তা তৈরী হয়নি। গ্রামের সরু আইল’ই যাতায়াতে একমাত্র ভরসা। বিদ্যালয়ে প্রবেশে রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটি কালভার্ট থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। বর্ষা মৌসুমে পুকুরটি যখন পানিতে ভরে যায় তখন কোন উপায় থাকেনা। মাঝে মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। সরু রাস্তা হওয়ার কারণে ওই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পুকুরে পড়ে গিয়ে কাপড়, বই-পত্র ভিজিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বহুবার। এমতাবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও বছরের পর বছর ধরে সেই ভোগান্তি নিয়েই চলে আসছে শিক্ষালাভের প্রক্রিয়া। বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র এখলাসের মা শিউলি বেগম বলেন, রাস্তা না-থাকার কারনে বাচ্চারা একা একা স্কুলে যেতে চায় না। বাচ্চাকে স্কুলে পাঠিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকি পুকুরে পড়ে যায় কিনা। এ জন্য মাঝেমধ্যে স্কুলে গিয়ে বাচ্চার জন্য বসে থাকতে হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু আফতাব বলেন, রাস্তা না থাকায় অনেক ভোগান্তি হয়। স্কুলে ছাত্রছাত্রী আসতে চায় না। অভিভাবকরা বাচ্চাদের দিতে চান না। বর্ষা মৌসুমে আরো বেশী সমস্যা হয়। জমির আইল দিয়ে আসতে পাশে পুকুরে পরে বইখাতা ভিজে যাওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ১০০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে বিদ্যালয় শুরু হলেও এখন আছে ৬১ জন। রাস্তা না থাকার কারণে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর উন্নয়নও হচ্ছে না। তাই রাস্তাটি তৈরি করবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিমল বাবু বলেন, গ্রামীণ পাকা সড়ক থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় আধাকিলোমিটার রাস্তাটি না থাকার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষক শিক্ষার্থীরা এমন দুর্ভোগ পোহালেও বারবার জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিচ্ছেন না। এ কারণে দিন দিন ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী কমে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পত্নীতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল গাফ্ফার বলেন, ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করতে এক সহৃদয়বান ব্যক্তি জমি দান করেছিলেন। কিন্তু বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য যে জমির প্রয়োজন কেউ দিতে না চাওয়ায় কাজটি থমকে আছে। জমি দিতে রাজি হলে তিনি ব্যক্তিগত খরচে হলেও রাস্তাটি তৈরি করে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

