ঢাকাSaturday , 11 September 2021
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টাঙ্গাইলে পানিবন্দি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরা নিয়ে সংশয়

দৈনিক পাঞ্জেরী
September 11, 2021 11:00 pm
Link Copied!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলে যমুনাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ, শ্রেণীকক্ষ আর রাস্তাঘাট পানির নীচে সেসব শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার পর তা খোলার সিদ্ধান্ত হলেও স্কুলে যাবার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে পারে পানিবন্দি এসব বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার অয়নাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায় স্কুলের মাঠে এখনো কোমর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্কুলে যাতায়াতের রাস্তাটি হাঁটু পানির নীচে। আর বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের মধ্যে দু’টির শ্রেণীকক্ষে পানি ঢুকেছে। বেঞ্চগুলো বলতে গেলে পানির নিচে রয়েছে। সদর উপজেলার চর গালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা। এ বিদ্যালয়ের মাঠে এখনো হাঁটু পানি রয়েছে। পশ্চিম দিকে একটি ভবনের প্রায় অর্ধেকটা রয়েছে পানির নিচে। এ সময় স্থানীয় বেশ কয়েকজন লোকের সাথে কথা হয়। তারা জানান, বন্যার পানি নেমে না গেলে ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠানো ঠিক হবে না। কারণ মাঠে এখনো হাঁটু পানি রয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পানি নেমে যাবে কি-না তার কোন নিশ্চয়তা নেই। সদর উপজেলার ১৩নং মগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে রয়েছে। সেখানে অবস্থিত মগড়া পালস ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সামনে জাল দিয়ে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত দেখা যায় স্থানীয়দের। বিদ্যালয়ের পুরো মাঠটি পানির নিচে রয়েছে। এদিকে কালিহাতি উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের ১৪নং সরকারি হাতিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের মাঠ থেকে পানি নেমে গেলেও কাদায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে।
এ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন জানান, স্কুলের মাঠ থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। কিন্তু এখানকার বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা নদী পার হয়ে স্কুলে আসে। এ ছাড়াও স্কুলে আসার যে রাস্তাটি রয়েছে তা এখনো পানির নিচে রয়েছে। তারপরও স্কুল খোলার সকল প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও শতভাগ আশা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এসব স্কুলের সামিয়া, শিপন, লামিয়া ও আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, পানির মধ্যেই ক্লাসে ফিরতে আগ্রহী। এতদিন পর স্কুলে যাবার জন্যে পুরো প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। এদিকে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রাজন জানায়, অনেকদিন ধরে স্কুলের বন্ধুদের সাথে দেখা হয় না। তাই যত কষ্ট হোক ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা স্কুলে যাবে। টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৬৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এরমধ্যে ৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে এখনো পানি রয়েছে। অপরদিকে ৮৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু বিদ্যালয়ের পানি নেমে গেলেও রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িতে এখনো পানি থাকার কারনে শিক্ষার্থীদের একটা অংশ ক্লাসে না ফেরার সংশয় রয়েছে। এ ব্যাপারে সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সকল প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বন্যা কবলিত স্কুলগুলো নিয়েও কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে সমস্যা সমধানের চেষ্টা করা হবে। অর্থাৎ যে কোন উপায়ে ১২ সেপ্টেম্বর শতভাত স্কুল খোলার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।