নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুর ইউনিয়নের রংমালা বাজারে মাদ্রাসা কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভোর ৬টা থেকে অতিরিক্ত র্যাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
১৪৪ ধারা জারির ফলে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মুছাপুর ইউনিয়নের রংমালা বাজার এলাকায় থেমে গেছে মানুষের চলাচল। রংমালা বাজারে সাধারণ লোকজনের উপস্থিতি অনেক কম। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র্যাব-পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সকাল থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা (ভূমি) কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছামিউল ইসলামের উপস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ রংমালা বাজার এলাকায় টহল দিচ্ছে। সেখানকার অধিকাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.জিয়াউল হক মীর বলেন, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। রোববার সকাল থেকে রংমালা বাজার এলাকার এলাকার চারদিকে ৫ বর্গকিলোমিটারে পুলিশের কঠোর টহল রয়েছে। এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ আদেশ চলাকালে কোন ব্যক্তি, সংগঠন, রাজনৈতিক দল, গণজমায়েত, সভা, সমাবেশ, মিছিল, র্যালি, শোভাযাত্রা, যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রংমালা বাজার এলাকায় চারজনের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবে না।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার হলরুমে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার রংমালা বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন বসুরহাট পৌর মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা। অপরদিকে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেতুমন্ত্রীর ভাগনে ও উপজেলা আ.লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জু ফেসবুক লাইভে এসে উপজেলা আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষে একই বাজারের রংমালা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। এতে আইন শৃঙ্খলার অবনতি, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.জিয়াউল হক মীর রোববার ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংমালা বাজার এলাকার চারদিকে ৫ বর্গকিলোমিটারে ১৪৪ ধারা ঘোষণা করেন।

