নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী এলাকায় ভোটের রাতে গৃহবধূকে (৩৫) ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদের একজন হাসান আলী বুলু (৬০) সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘প্রধান সহযোগী’ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। রুহুল আমিনকে এ ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যজন জসিম উদ্দিন (৩০) সুবর্ণচরের চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের মোতাহের হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় কলা বিক্রেতা।
জসিমকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের নাজিরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে চরজব্বার থানার পুলিশ। এরপর চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হাসান আলী বুলুকে।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ দুই জনকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলার এজাহারে বুলু বা জসিমের নাম ছিল না। তবে তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বিষয় উঠে আসে। এর আগে এ ঘটনায় পাঁচ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের একজন সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন। অন্য চারজন ইটভাটা শ্রমিক।
মামলায় এজাহারভুক্ত নয় আসামির মধ্যে এখানো পাঁচ জন পলাতক রয়েছে। তারা হলেন হানিফ (৩০), চৌধুরী (২৫), মোশারফ (২৮), সালাউদ্দিন (৩৫) ও আবুল (৪০)। চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানান, মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নির্যাচিত নারী অভিযোগ করেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনের দিন গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটের মাঠে নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে ওই রাতে স্বামী ও সন্তানদের ঘরে বেঁধে রেখে কয়েক জন তাকে ধর্ষণ করেছে। এ অভিযোগে নয়জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেছেন ওই গৃহবধূর স্বামী।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ওই নারীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আব্দুল আজিম গণধর্ষণের আলামত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

