ঢাকাSunday , 21 December 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের ফার্মগেট!

Link Copied!

সিঙ্গাপুরের মোস্তফা সেন্টারের চিত্র এটি। যেন বাংলাদেশের চিরচেনা ফার্মগেট-ছবি কবীর হোসেন

সিঙ্গাপুরের মোস্তফা সেন্টারের চিত্র এটি। যেন বাংলাদেশের চিরচেনা ফার্মগেট -ছবি কবির হোসেন

সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে হাসান রেজা : পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশের খেতাব অর্জনকারী সিঙ্গাপুরের মিটি মার্ট, মুস্তাফা সেন্টার ও সংলগ্ন এলাকা যেন বাংলাদেশের ফার্মগেট। বাংলাদেশিদের পদচারণায় মুখর থাকে এ এলাকা। ফেরার পার্ক স্টেশন থেকে শুরু করে মুস্তাফা সেন্টার, মিটি মার্ট, ডেস্কার রোডে বাংলাদেশিদের আনাগোনা দেখে মনে হতেই পারে, এ যেন বাংলাদেশের কোন জনাকীর্ণ এলাকা।
সিঙ্গাপুরের মিটি মার্টকে বাংলাদেশি পাড়া বললেও ভুল হবে না। বাংলাদেশি কোন পর্যটক যদি মিটি মার্ট সম্পর্কে না জেনে সেখানে যান তাহলে তিনি মোটামুটি ভড়কে যেতে পারেন। কারণ, এখানকার সবকিছুতেই বাংলাদেশের ছোঁয়া। মনেই হবে না যে, দেশের বাইরে আছি। মিটি মার্টে বাংলাদেশের পান দোকান থেকে শুরু করে সিগারেট, বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর জন্য বিভিন্ন ব্যাংক যেমন অগ্রণী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, বিভিন্ন ধরণের সবজির দোকান, লুঙ্গি-টুপি, পাজামা-পাঞ্জাবীসহ সবকিছু পাওয়া যায়। এমনকি এখানে বিকাশ, ফ্লেক্সিলোড সার্ভিসও আছে। কেউ ইচ্ছে করলে বাংলাদেশের যে কোন মোবাইল ফোনে বিকাশ অথবা ফ্লেক্সিলোডও করাতে পারবেন।
এখানে বাংলাদেশিদের আধিক্য ও প্রভাবের বিষয়টি পরিষ্কার হয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামফলকে বাংলার প্রয়োগ দেখে। মুস্তাফা সেন্টার সংলগ্ন সড়কে এসেই চোখে পড়লো বাংলায় লেখা একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার বাংলাদেশি মনিরুজ্জামান এ এলাকাকে তুলনা করলেন ঢাকার ফার্মগেটের সাথে। অবশ্য অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ ও বাংলাদেশিদের প্রভাবের আধিক্যে বোঝা গেল, মনির ভুল বলেননি।
এখানকার বাংলা খাবারে যেন একেবারে দেশের স্বাদ। ডাল, ভাত, পরোটা, নানা পদের ভর্তা-ভাজি, নান রুটি-গরুর মাংস, হালিম, চটপটি, ঝালমুড়ি, ছোলা থেকে শুরু করে সবই পাওয়া যায় এখানে। সিঙ্গাপুরের এ এলাকাটিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার আমেজ অনেকাংশেই কম। কোলাহলমুখর মিটি মার্টে আইন কানুনের শিথিলতাও নজর এড়াবে না। মির্টি মার্ট, মুস্তাফা সেন্টার ও আশপাশের এলাকায় কিছু অপরিচ্ছন্ন দোকান, রেস্তোরাঁরও দেখা মিলবে। বাংলাদেশের মতোই রাস্তার পাশে, ড্রেনের উপর, পার্কিংয়ে, পার্কে যে কোন জায়গায় গোল হয়ে বসে বাংলাদেশিদের আড্ডাও চোখে পড়বে।
বাংলাদেশের গুলিস্তানের মতোই হাঁকডাক দিয়ে জিনিসপত্র বিক্রি হয় এখানে। এখানে ৮ ডলারে পাওয়া যাবে সিঙ্গাপুরের সিম, ৫ ডলারে পাওয়া যাবে জিন্স প্যান্ট, ৩ ডলারে হাফ প্যান্ট, ৫ থেকে ১০ ডলারে শার্ট, ১০ ডলারে বাহারি ঘড়ি, ৩০ থেকে ৫০ ডলারে মিলবে মোবাইল ফোন।
ফেরার পার্ক স্টেশন থেকে শুরু করে মুস্তাফা সেন্টার, মিটি মার্ট, অঙ্গুলিয়া মসজিদ, ডেস্কার রোডে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা কানে আসবে। তাদের প্রত্যেকের কাছে ‘মিটি মার্ট’ খুবই প্রিয় একটি জায়গা। সিঙ্গাপুরে প্রবাসী যে কোন বাংলাদেশি এই মিটি মার্টে দিনে একবার হলেও আসেন বলে জানা গেল। এখানে এলেই তারা যেন নিজ মাটি ও মানুষের গন্ধ পান।
সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে রোববার যেন ঈদের দিনের মতো। মিটি মার্ট ও মুস্তাফা সেন্টার এলাকায় প্রতি রোববার সন্ধ্যার পরপরই বাংলাদেশিদের ভিড় শুরু হয়। এই একটি দিনের জন্য প্রতি বাংলাদেশি সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করেন। ‘বাসমতি’ রেস্টুরেন্টে বসে কথা হয় নরসিংদীর আনিসুর রহমানের সাথে। তিনি এখানে কাজ করেন গত আড়াই বছর ধরে। তিনি জানালেন, রোববার এখানে খাওয়ার জন্য লাইন ধরতে হয়। মিটি মার্টের আশপাশ এলাকায় দাঁড়ানোই মুশকিল হয়ে পড়ে বলে জানালেন তিনি।