স্পোর্টস ডেস্ক : শূন্য রানে জীবন পেয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে দলের স্বল্প পুঁজিতে সাকিব আল হাসানের ২৮ রানই রেখেছে বড় ভূমিকা। পরে বল হাতে নিলেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার সঙ্গে বোলিংয়ে আলো ছড়ালেন রশিদ খানও। তাতে ১৩২ রানের সম্বল নিয়েও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ১৩ রানে হারাল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
ঘরের মাঠে বৃহস্পতিবার রাতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল হায়দরাবাদ। ওপরের দিকের তিন ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান, কেন উইলিয়ামসন ও ঋদ্ধিমান সাহার মধ্যে দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন শুধু একজন। ধাওয়ান করেছেন ১১।
এরপরই উইকেটে আসেন সাকিব। কিন্তু মুখোমুখি দ্বিতীয় বলেই আউট হয়ে যেতে পারতেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ভারতীয় পেসার বারিন্দার স্রানের শর্ট বলে সাকিব টপ-এজ হয়ে ধরা পড়েন থার্ডম্যানে। কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন সাকিবের। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, ‘ওভার স্টেপিং’ করেছিলেন স্রান, নো বল!
শূন্য রানে জীবন পাওয়া সাকিব পরের বলেই স্কয়ার লেগ দিয়ে চার হাঁকিয়ে রানের খাতা খোলেন। এক বল পর কাট শটে হাঁকান আরেকটি দুর্দান্ত চার। ১৩তম ওভারে আরেকটি চার মেরেছিলেন টাইকে। কিন্তু পরের ওভারে আফগান স্পিনার মুজিব জাদরানের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ২৯ বলে ৩টি চারে এবারের আইপিএলে নিজের সর্বোচ্চ ২৮ রানের ইনিংসটি সাজান বাংলাদেশের অলরাউন্ডার।
মনিশ পান্ডের সঙ্গে সাকিবের ৫২ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি টেনে তোলে হায়দরাবাদকে। মনিশ শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৪ রান। এ ছাড়া ইউসুফ পাঠানের ১৯ বলে অপরাজিত ২১ রানে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রানের পুঁজি পায় হায়দরাবাদ।
ক্যারিয়ার এবং এবারের আইপিএলের সেরা ১৪ রানে ৫ উইকেট নেন পাঞ্জাবের পেসার আঙ্কিত রাজপুত। সব মিলিয়ে এটি আইপিএলের পঞ্চম সেরা বোলিং ফিগার।
রান তাড়ায় এই আইপিএলের সবচেয়ে বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি লোকেশ রাহুল ও ক্রিস গেইল এদিন খেলেছেন দেখেশুনে। ঝড় তোলার বদলে ব্যাট করেছেন রয়েসয়ে। দুজন গড়ে ফেলেন ৫৫ রানের জুটি। অষ্টম ওভারে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের নম্বর ওয়ান বোলার রশিদ খান এনেছেন ব্রেক থ্রু। আফগান স্পিনার অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেছেন রাহুলকে (৩২)।
পরের ওভারে বাসিল থাম্পিকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন গেইলও (২৩)। সাকিব নিজের পরপর দুই ওভারে ফিরিয়েছেন মায়াঙ্ক আগারওয়াল ও অ্যারন ফিঞ্চকে। এর মধ্যে আগারওয়ালকে ফিরিয়ে আইপিএলে ৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন সাকিব। মাঝের ওভারে করুন নায়ার এলবিডব্লিউ হয়েছেন রশিদের গুগলিতে। প্রথম তিন ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করা সন্দ্বীপ শর্মা কোটার শেষ ওভারে এসে নিয়েছেন মনোজ তিওয়ারি ও অ্যান্ড্রু টাইয়ের উইকেট।
এরপর বারিন্দার স্রান ও অধিনায়ক রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বিদায়ে একটা সময় বিনা উইকেটে ৫৫ থেকে পাঞ্জাবেরস্কোর হয়ে যায় ৯ উইকেটে ১০১! এগারো নম্বরে নামা মুজিব জাদরান ৫ বলে ১০ রান করে শেষ ওভারে সমীকরণটা নিয়েছিলেন ১৫ রানে।
শেষ ওভারে থাম্পির ইনসুইং-ইয়র্কার করা প্রথম বলে মুজিব লেগ বাই থেকে নিয়েছিলেন এক রান। পরের বলেই রাজপুতের মিডল স্টাম্প উপড়ে পাঞ্জাবকে ১১৯ রানে গুটিয়ে দেন থাম্পি।
হারের পরও ম্যাচসেরা হয়েছেন ৫ উইকেট নেওয়া রাজপুত। তবে সেটা শুধু সান্ত্বনা পুরষ্কার হিসেবেই থেকেছে! এই জয়ে আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলে দুইয়ে উঠে এসেছে হায়দরাবাদ। সেরা তিনে থাকা চেন্নাই সুপার কিংস, হায়দরাবাদ, পাঞ্জাব- তিন দলেরই সমান ১০ পয়েন্ট।

