ঢাকাSunday , 14 December 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দরবন বিপর্যয়: নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

Link Copied!

Shajanনিজস্ব প্রতিবেদক : তেলবাহী জাহাজ দুর্ঘটনায় সুন্দরবনে স্মরণকালের ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকারই প্রধান ও প্রকৃত দায়ী উল্লেখ করে অবিলম্বে তাকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা।
তারা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যান বেআইনিভাবে বনের ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের অনুমতি দিয়ে জাতীয় সম্পদ সুন্দরবন ও মংলা বন্দর ধ্বংসের কাজে লিপ্ত রয়েছেন। গত তিন বছরে শামসুদ্দোহা খন্দকারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বার্থবিরোধী এই কাজ বন্ধ না করায় নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগও দাবি করেছেন তারা।
রোববার দুপুরে রাজধানীর পুরান পল্টনের কমরেড মণি সিংহ সড়কের মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি আলোচনা সভায় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক নেতা ও পরিবেশকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধিরা এই দাবি করেন। সুন্দরবনের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর) ও সিটিজেনস রাইটস মুভমেন্ট (সিআরএম) যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ খাকার পরও মংলা বন্দরের সঙ্গে স্বল্প দূরত্বের মংলা-ঘষিয়া নৌপথটি তিন বছরে সচল না করায় বন্দরের স্বার্থহানি করা হয়েছে। এছাড়া বন ও বন্যপ্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-২০১০ এবং জাতিসংঘের রামসার কনভেনশন লঙ্ঘন করে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক ও ভারি নৌযান চলাচলের অনুমতি দিয়ে অভ্যন্তরীণ নৌপথের সংরক্ষক বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার শুধু ক্ষমতার অপব্যবহারই করেননি, অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস-প্রক্রিয়ায় লিপ্ত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ভূমিকা পালন করে চলেছেন। আর তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ায় নৌমন্ত্রী শাজাহান খানও সুন্দরবন বিপর্যয়ের দায়ভার এড়াতে পারেন না বলে বক্তারা মন্তব্য করেন। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনেরও দাবি জানান তারা।
বিপর্যস্ত সুন্দরবনকে বাঁচাতে দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন না বাঁচলে বাংলাদেশ অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে; মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ অচল থাকলে মংলা বন্দর কখনও পুরোপুরি সচল হবে না। জাতীয় স্বার্থে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
আলোচনায় অংশ নেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ পংকজ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম, তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সংগঠক ও সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না, মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরবন অঞ্চলে নেতৃত্বদানকারী গেরিলা বাহিনীর খুলনা বিভাগীয় কমান্ডার অ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর, নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্যসচিব আমিনুর রসুল বাবুল, ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা মুর্শিকুল ইসলাম শিমুল, সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট তাসনীম রানা, যুব ইউনিয়ন নেতা সেকেন্দার হায়াৎ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম-সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, পীস’র মহাসচিব ইফমা হুসেইন, গ্রিন বেল্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক জসিম কাতাবী, আইএফপি’র সভাপতি আরিফুর রহমান আরিফ পরিবেশ সম্মত বাসযোগ্য ঢাকা বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব হাজী মোহাম্মদ শহীদ প্রমুখ।
নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক আশীষ কুমার দে’র সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিটিজেনস রাইটস মুভমেন্টের (সিআরএম) মহাসচিব তুসার রেহমান প্রমুখ নেতারা অংশ নেন।