তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা ভিআর বর্তমানে প্রযুক্তি বিশ্বে খুবই জনপ্রিয়। বাস্তব নয় কিন্তু দৃশ্যকে বাস্তবে অনুভব করার মতো সুবিধা দেয় এই প্রযুক্তি।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে দেখা পরিবেশ হুবহু বাস্তব মতো হতে পারে। কাল্পনিক জগতে নিজেকে স্বশরীরে উপলব্দি করা যায়। এতদিন কেবল বিনোদন উপভোগে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রচলিত হলেও, এবার এমন একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি তৈরি করা হয়েছে, যা মৃত্যু ছাড়াই মৃত্যুর অভিজ্ঞতা দেবে।
হাসপাতালে দীর্ঘ অসুস্থ রোগীদের উপকারে এটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা মৃত্যু অনুভূতি নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। তাদেরকে নিজের মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে এবং মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে পরিচয় করানোর মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে যে, এটি বাস্তবতায় প্রকৃত মৃত্যু ভয় কমাতে সাহায্য করবে।
পরীক্ষামূলক এই ডিভাইসটি তৈরি করেছেন ডাচ ডিজাইনার ফ্রাঙ্ক ককম্যান। কম্পিউটার গ্রাফিক্সের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল জগত তৈরির পরিবর্তে, এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ডিভাইসটি বাস্তব জগতের ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে।
এক্ষেত্রে রোগীদেরকে একটি রোবটিক মাথার সম্মুখে দাঁড়াতে হয়, যা একটি ট্রেকে সামনে এবং পিছনে চলাফেরার মাধ্যমে সিম্যুলেটেড পরিবেশ তৈরি করে। ব্যবহারকারীর চোখে পড়া থাকে থ্রিডি ক্যামেরা সম্পন্ন ভিআর হেটসেট, যাতে নিজেকে শরীর থেকে সরে যাওয়ার অনুভূতি অনুভব হয়।
ডি জেন ম্যাগাজিনকে ককম্যান বলেন, ‘মৃত্যুর ভয় ও অভিজ্ঞতা একটি উপেক্ষিত বিষয়। যদি আমরা মৃত্যুর আশেপাশে আমাদের উদ্বেগগুলোর চিকিৎসা শুরু করি, তাহলে এর মানে হচ্ছে মৃত্যুর প্রক্রিয়া আরো আরামদায়ক হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে, বেশিরভাগ লোক হাসপাতালে মারা যায় বা কেয়ার হোমে, মৃত্যুর মুখোমুখি হয় চিকিৎসার ক্ষেত্রে। কিন্তু চিকিৎসকদেরকে জীবন বাঁচাতে এবং প্রসারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, আমাদের মৃত্যুতে নয়।’
রোবোটিক মাথাটি সরানো যায়, যা ভিয়ার হেডসেট পরিধানকারীকে চারপাশে দেখতে এবং তাদের সন্ধান করতে দেয়। হেডসেটে থাকা মাইক্রোফোনে যে শব্দ তারা শুনতে পায়, তা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। আরো ভালোভাবে শারীরিক অভিজ্ঞতায় তা অনুধাবন করাতে ব্যবহারকারীর বুকের লাগানো হাম্বার প্রতি সেকেন্ডে হৃদস্পন্দন অনুকরণ করায়। ট্রেক শেষে ব্যবহারকারীকে রোবোটিক প্রতিচ্ছবির মুখোমুখি করে শরীরের বিভ্রম মুক্তির।
একটি লিখিত বিবৃতিতে ককম্যান বলেন, ‘আউটরোস্পেকট্রে নামক এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ডিভাইসটি একটি পরীক্ষামূলক মেডিক্যাল ডিভাইস হিসেবে তিনি তৈরি করেছেন, যা মুত্যুর সঙ্গে মানুষকে মিলিত করার উদ্দেশ্যে শরীরের বাইরের অভিজ্ঞতা অনুভব করাবে।’
তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবায় সর্বাধিক প্রচেষ্টা এবং গবেষণা করা হয় মানুষকে জীবিত রাখার জন্য। কিন্তু সাম্প্রতিক প্যারা-মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ভার্চুয়াল বাস্তবতা প্রযুক্তির ব্যবহার করে নিজের শরীরের বাইরে প্রবাহিত হওয়ার অনুভূতি মৃত্যুর উদ্বেগ কমানোর সাহায্য করতে পারে।
হাসপাতালের পরিবেশের মধ্যে আউটরোস্পেকট্রে অনেক বেশি উপযোগী, যেখানে এটি দীর্ঘ অসুস্থ রোগীদের আরো সান্ত্বনার সঙ্গে তাদের নিজস্ব মৃত্যু গ্রহণে সাহায্য করতে পারে। এই প্রকল্পটি মৃত্যু এবং ‘জীবনের শেষ’ নিয়ে উত্তরহীন প্রশ্নের তদন্ত করে।
ককম্যান তার এই উদ্ভাবনটি সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে প্রদর্শন করেছেন। তিনি আশা করছেন, তার এই প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পর এটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার হবে।

