মাগুরা প্রতিনিধি : দুইদিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সকাল থেকে মাগুরার চারটি অভ্যন্তরীণ রুটে বাসচলাচল শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর মাগুরা-নড়াইল ও মাগুরা-যশোর আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং মাগুরা-শ্রীপুর ও মাগুরা-মহম্মদপুর অভ্যন্তরীণ সড়কে বাস চলাচলের ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা।
বাসচালককে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকেরা দুটি আঞ্চলিক ও দুটি অভ্যন্তরীণ সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এই চারটি রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা।
এদিকে বাসচালক মো. সুজনের (২৫) লাশ মঙ্গলবার রাতে মাগুরায় এসে পৌঁছে। আজ সকাল ৮টার দিকে পৌরসভার পারলা গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। সুজন মাগুরা-মহম্মদপুর সড়কে যাত্রীবাহী বাসের চালক ছিলেন। তিনি পৌরসভার পারলা গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।
শ্রমিকেরা জানান, গত শনিবার সুজন যাত্রী নিয়ে মাগুরা থেকে মহম্মদপুরে যাচ্ছিলেন। পথে মালিক গ্রাম এলাকায় ইফতারির সময় হলে বাস থামান তিনি। বাস থামানোর সময় স্থানীয় এক যুবকের বাইসাইকেলে বাসটি আঘাত করে। এ সময় দুই যুবক সুজনকে পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর আহত সুজনকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে ফরিদপুর ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোমবার ভোরে তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে মাগুরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইমদাদুর রহমান বলেন, ‘আমরা ধর্মঘট ডাকিনি। তবে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা মাগুরার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘নায়েব মোল্যা (৩৫) ও সজীব মোল্যা (২৮) নামে স্থানীয় দুই যুবক ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সন্দেহভাজন তিন যুবককে আটক করা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলাটি হয়নি।

