ঢাকাTuesday , 14 March 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদেশি শ্রমিকদের নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদন অসত্য

Link Copied!

nurul islamনিজস্ব প্রতিবেদক : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সম্প্রতি বিদেশে যেতে শ্রমিকরা দুর্নীতির শিকার হয়, উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনের ‘তথ্য ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম। একই সঙ্গে প্রতিবেদনটিকে ‘বানোয়াট’ ও ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রাজধানীর ইস্কাটনে মঙ্গলবার দুপুরে প্রবাসীকল্যাণ ভবনে প্রবাসীকল্যাণবিষয়ক রিপোর্টারদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টস (আরবিএম) এর নবগঠিত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বিদেশে যেতে ৯০ শতাংশ পুরুষ শ্রমিক দুর্নীতির শিকার হয়’। এ প্রতিবেদনকে মন্ত্রণালয় বা অভিবাসন খাতের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ পাঠাব।’
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ‘ভিসা বা চাহিদাপত্র কিনতে শুধু ২০১৬ সালেই ৫ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। একইভাবে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের গ্রুপ ভিসার নিয়োগ অনুমতি নিতে মন্ত্রণালয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটকে ১৩-১৫ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়।’
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘দালালদের প্রাধান্যে বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের প্রক্রিয়াটি জটিল। প্রতিবেশী যেকোনো দেশের চেয়ে বিদেশ যেতে বাংলাদেশিদের বেশি খরচ হয়। বিএমইটির বহির্গমন শাখায়ও ছাড়পত্র নেওয়ার আগে কর্মীদের ঘুষ দিতে হয়।’
প্রতিবেদনটির বিষয়ে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘টিআইবি যে তথ্য দিয়েছে তা সত্য নয়। বর্তমানে আমাদের সব কাজ নির্দিষ্ট সিস্টেমে হয়। দুর্নীতির সুযোগ নেই। আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এ কাজ করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় আমাদের কোনো সিন্ডিকেট নেই। এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে আবার আমাদের সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। নতুন অনেক দেশ আমাদের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। যেমন, জাপান আমাদের দেশ থেকে ৫০০ চিকিৎসক নিতে চেয়েছিল। কিন্তু বেতন কম হওয়ায় আমাদের চিকিৎসকরা আগ্রহ দেখাননি।’
এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কোনো সিন্ডিকেট নেই। ১০-১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি সেখানে কাজ করবে। তবে সিন্ডিকেটের অনেক চেষ্টা হয়েছে। আমি করতে দিইনি।’
সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম সামসুন্নাহার বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ১০৮১টি রিক্রুটিং এজেন্সি আছে। কোনো দেশেই সব এজেন্সি একসঙ্গে লোক পাঠায় না। সৌদি আরব, কাতারসহ অন্যান্য দেশে ২০-৫০টি এজেন্সি লোক পাঠাচ্ছে। আমরা মালয়েশিয়ার কাছে বৈধ সব এজেন্সির তালিকা পাঠিয়েছিলাম। সেখান থেকে তারা এই ১০টি এজেন্সিকে বাছাই করেছে। তাদের সঙ্গে আরো ২০টি এজেন্সি কাজ করবে। কোন দেশে কয়টি এজেন্সি শ্রমিক পাঠাবে তা নির্ভর করে চাহিদা সংগ্রহের ওপরে। আর চাহিদা সংগ্রহ এজেন্সিগুলোর কাজ।’
তিনি বলেন, ‘দুই দেশের প্রাইভেট সেক্টরের কারণে জিটুজি পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে। এরপর প্রাইভেট সেক্টরকে অন্তর্ভুক্ত করে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে।’
টিআইবির প্রতিবেদনের বিষয়ে সচিব বেগম সামসুন্নাহার বলেন, ‘টিআইবি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করছি। পুরো প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আমরা কথা বলব। তবে আমরা দুর্নীতি রোধ করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছি, যা যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে। আমরা মোট ১ হাজার ১৮১ জনকে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর জন্য লাইসেন্স দিয়েছি। এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই।’
অনুষ্ঠানে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুহ. মুহসীন চৌধুরী, আরবএম সভাপতি ফিরোজ মান্না ও সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকসহ রিপোর্টার ফর বাংলাদেশি মাইগ্রেন্ট এর নতুন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।