নিজস্ব প্রতিবেদক : সড়কের মড়ক থেকে জাতিকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)। শনিবার সকাল ১১টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান প্রাক্তন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
মানববন্ধনে সড়ক, নৌ ও রেলপথে সংঘটিত দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়পূর্বক সড়কে লাশের মিছিলের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়। প্রতীকীভাবে রক্তাক্ত কাফনের কাপড় পরে প্রেসক্লাবের রাস্তায় শুয়ে পড়েন মানববন্ধনকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আগের তুলনায় সড়ক-মহাসড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমে আসলেও এই ঈদের ছুটিতে দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। কী এর কারণ? কেন এমন হচ্ছে? সড়ক-মহাসড়কে লাশের মিছিল থামাবে কে? স্বজনদের কান্না থামাবে কে? সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াবে কে?
বক্তারা এসব প্রশ্ন ছুড়ে দেন প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে।
মানববন্ধনে জানানো হয়, নিরাপদ সড়ক চাই এর মনিটরিং টিমের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঈদের ছুটিতে শুধু ১৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে অন্তত ২০৫ জনের। আহতের সংখ্যা ৬৩৮ জন। যাদের অনেককে হয়তো চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হবে।
এই পরিসংখ্যানে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি নৌ, রেলপথ ও আকাশপথে সংঘটিত দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে সংঘটিত দুর্ঘটনার চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, চলতি মাসের ৮ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ঈদ মৌসুমে বাস দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে শুধু বাস উল্টে ও বাসের ধাক্কায় পথচারীসহ ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাসের সঙ্গে ট্রাক, মাইক্রোবাস, কাভার্ডভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত হয় ৮৬ জন। এ ছাড়া ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভটভটি, লেগুনা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২৯ জন নিহত হয়েছে। শুধু ট্রাকচাপায় নিহত হয় আটজন। এ ছাড়া প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটে। এদিকে ট্রেন দুর্ঘটনায় তথা রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ছয়জন নিহত এবং চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ৫০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া নৌপথে ঈদযাত্রায় আটটি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে।
এবার আকাশপথেও একটি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে কক্সবাজারে নামিয়ে দিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে স্থানীয় রিজুখাল এলাকায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়। এই ঈদে সংঘটিত দুর্ঘটনায় এই লাশের মিছিলে সবাই স্তম্ভিত।
নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার মতো দুর্যোগসম সমস্যা নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনীহা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। আমরা প্রায়শই দেখে থাকি দেশের কোনো সমস্যায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জাতীয় ঐক্যের কথা বেশ জোর দিয়ে বলে থাকেন। উদাহরণ হিসেবে গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে। তখন আমরা দেখেছি সরকারি, বিরোধী দল দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যের কথা বলে সরব হয়ে উঠেছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিয়ে যদি তারা আন্তরিক হন তাহলে সড়কের অপঘাতে মৃত্যুর হার কমে আসতে বাধ্য।’
তিনি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে এই সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হয়ে উঠার অনুরোধ জানান।
আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) প্রতিবছর দিনটিকে ঘিরে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করে থাকে। প্রতিটি কর্মসূচি পালিত হয় বিষয়ভিত্তিক। দিবসটি ঘিরে এবার ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নানা কর্মসূচি পালিত হবে। আজকের মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হলো।

