ঢাকাSaturday , 17 September 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেড়েছে প্রযুক্তির সহায়তা

Link Copied!

dmpনিজস্ব প্রতিবেদক : তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ আমাদের অনেক কাজকে সহজ করে দিয়েছে। ঘরের বাইরে না গিয়ে আমরা এখন অনেক কিছুই করতে পারছি। সেবায় নিয়োজিত প্রায় সব সংস্থা তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজ সহজ ও উন্নত হয়েছে ।
বাংলাদেশ পুলিশ মানুষের সেবাপ্রাপ্তিকে সহজ করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে শুরু করেছে। বর্তমানে যে কেউ পুলিশের এই তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিতে পারে। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও অনলাইনে পুলিশের সাহায্য চাইতে পারেন। তবে যেসব ক্ষেত্রে পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন নেই কেবল সেসব ক্ষেত্রেই অনলাইনে সাহায্য চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এদিকে পুলিশ বিভাগকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরো আধুনিকায়ন করতে সরকার আইন প্রয়োগকারী এই বিভাগকে ডিজিটাল ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এরই মধ্যে রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার পুলিশ বিভাগে ডিজিটাল ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।
এ ছাড়া, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ বিভাগকে ডিজিটাল ওয়্যারলেস ব্যবস্থার আওতায় আনতে আটটি ‘চ্যানেল ট্রাঙ্কিং সিস্টেম’ চালু করতে যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের কর্মতৎপরতা বাড়াতে সহায়তা নিচ্ছে বিভিন্ন প্রযুক্তির। অপরাধী ধরা বা শনাক্ত করতেও প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাজধানীতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের শনাক্তকরণ, সন্দেহভাজন অপরাধীর পরিচয় নিশ্চিত হতে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিশেষ করে গুলশান হামলায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী রিসা হত্যাকারী ওবায়দুলকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, সরকারের অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের মতো পুলিশ বিভাগেও ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া লেগেছে। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে বেশ কিছু প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হ্যালো সিটি অ্যাপস, ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেম, টিম ট্রেকার পদ্ধতি, ডিএমপি নিউজ পোর্টাল, রোবট, সিসিটিভিসহ আরো অনেক কিছু।
তিনি আরো বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশনে আমরা সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিতে চেষ্টা করছি। কারণ যত বেশি উন্নত প্রযু্ক্তি আমরা ব্যবহার করতে পারব তত জনগণকে উন্নত সুযোগ-সুবিধা দিতে পারব।’
পুলিশের অনলাইন সেবা: পাসপোর্ট করার সময় পুলিশের যে ভ্যারিফিকেশন প্রয়োজন হয় সেটির অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায় www.immi.gov.bd সাইটের মাধ্যমে। একই সাইটের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত নিয়মকানুন জানার ব্যবস্থাও আছে। পুলিশ সদস্য ছাড়াও যেকোনো ব্যক্তি জরুরি রক্তের প্রয়োজনে অনলাইনে পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন www.policebloodbank.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।
সমস্যা ও অভিযোগ জানানো, অনলাইনে জিডি করা ইত্যাদির জন্য www.police.gov.bd অথবা www.dmp.gov.bd সাইটের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। এ জন্য সাইট দুটির কোনো একটিতে গিয়ে সিটিজেন হেলপ রিকোয়েস্টে ক্লিক করতে হবে।
এ ছাড়া ‘ও বন্ধু আমার পুলিশ (বন্ধু পুলিশ)’ প্রোগ্রামের আওতায় নতুন বা পুরাতন দারোয়ান, নৈশপ্রহরী, গৃহপরিচারিকা ইত্যাদি নিয়োগ সম্পর্কে ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুলিশকে অবহিত করার সুযোগ আছে। আর নিয়োগকৃত ব্যক্তির ছবিও আপলোড করে দেওয়া যেতে পারে পরবর্তী সময়ে আইনগত সহযোগিতার জন্য।
গাড়ির যাবতীয় কাগজপত্র, রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রুট পারমিট, জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনসংক্রান্ত সকল তথ্য যাচাই করার জন্য পুলিশ এখন তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই করে থাকে। পুলিশের জন্য বিশেষভাবে তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিজিটাল চেক ইন ও আউটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩৩টি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মধ্যে ৫টিকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। ৯২ ভাগ লোকজনের যাতায়াত এই চেকপোস্টের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পরীক্ষা করা, ছবি নেওয়া এবং আঙুলের ছাপ নেওয়া যায়।
পুলিশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এখন আগারগাঁওয়ের ভিসা ডাটাবেইস এবং কাকরাইলের জনশক্তি ব্যুরোর ডাটাবেইসের সঙ্গে যুক্ত। খুব শিগগির এই ব্যবস্থাটিকে ৬৫টি দেশে বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই ব্যবস্থাটি পুরোপুরি ডিজিটাল হওয়ার কারণে ভিসার মেয়াদ পেরোনোর পরেও কোনো বিদেশি বাংলাদেশে অবস্থান করলে সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব। বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের রেজিস্ট্রেশনও এখন অনলাইনে সম্পন্ন করা যাচ্ছে।
ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা পুলিশের অন্যান্য কার্যক্রম : অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণের জন্য পুলিশ একটি ডিজিটাল ডাটাবেইস তৈরি করেছে। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে আঙুলের ছাপ শনাক্তকরণের ব্যবস্থা আছে। অত্যাধুনিক ক্রাইম সিন ভ্যানও যুক্ত হয়েছে পুলিশ বিভাগে। ঢাকা এবং চট্টগ্রামে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব চালু করা হয়েছে। পুলিশের রেশন, পেরোল, ছুটি ব্যবস্থাপনা, যানবাহন ব্যবস্থাপনা, দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষণ ইত্যাদিও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
এর বাইরে নতুন সংযোজিত কিছু অ্যাপস পুলিশ বাহিনীকে আরো বেশি সাধারণ জনগণের কাছে নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-
হ্যালো সিটি অ্যাপস : জঙ্গি ও উগ্রবাদ, বিস্ফোরক, অস্ত্র এবং আন্তদেশীয় অপরাধের তথ্য যেন সাধারণ মানুষ সহজে পুলিশের কাছে পৌঁছে দিতে পারে সে জন্য হ্যালো সিটি নামের একটি অ্যাপস চালু করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট। গত ৩১ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ অ্যাপসটির উদ্বোধন করেন। ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন অপরাধের তথ্য এসেছে এ অ্যাপসে।
ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেম: ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের মাধ্যমে চালকের লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, রোড পারমিট যাচাই করা যায়। ফলে সহজেই অপরাধীদের জরিমানা করা যায়। এতে ট্রাফিক মামলায় আগে যে ধরনের দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতো তা থেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে। ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর এ প্রযুক্তির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের যাবতীয় কাজ এ প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়।
অপরাধীদের ডাটা সংরক্ষণ ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণে রোবট : ডিএমপির সকল থানায় ক্রিমিনাল আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে অপরাধীদের ডাটা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। অপরাধী আটক হলেই আঙুলের ছাপ ও শরীরের শনাক্তকরণ চিহ্নসহ ছবি সংরক্ষণ করে এর ডেটাবেইস আরো সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অপরাধীকে পরবর্তী সময়ে আটক করা হলে তারা আগের অপরাধ সম্পর্কে সহজে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়।
এ ছাড়া বোমা নিষ্ক্রিয় করা এবং নিরাপদে স্থানান্তর করতে ডিএমপিতে সংযোজন করা হয়েছে রোবট। প্রতিটি রোবটে মোট চারটি ক্যামেরা রয়েছে। দূর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এটি ব্যবহার করা যায়। বোমা বিস্ফোরণ ছাড়াও যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ স্থান সম্পর্কে ধারণা নিতে রোবট পাঠানো হয়।
মনিটরিং ও অনলাইনে ভাতা প্রদান : মোবাইল ডিউটি বা প্যাট্রোল ডিউটিতে কর্মরতদের মনিটরিং ও ঘটনাস্থল থেকে কুইক রেস্পন্স টাইম কমিয়ে আনতে টিম ট্রেকার পদ্ধতি চালু করেছে ডিএমপি। এর মাধ্যমে টিমগুলোর কাজের তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে। কর্মরত অফিসার ও ফোর্সদের বেতন-ভাতা সহজে দিতে বিশেষ সফট্ওয়্যারের মাধ্যমে ২০১৩ সালের মে মাস থেকে অনলাইনে পে রোল চালু করেছে ডিএমপি।
অনলাইনে জিডি : সাধারণ ডায়েরি করতে সাধারণ মানুষের বিড়ম্বনা এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অনলাইনে জিডি করার সুযোগ তৈরি করেছ। যদিও এটি এখনো পরীক্ষামূলক অবস্থায় আছে তবু সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে এটি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে বাস্তবায়ন হবে।
ডিএমপি নিউজ পোর্টাল : ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে পুলিশের সকল তথ্য তাত্ক্ষণিক জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৪ সালে ডিএমপির ওয়েব পোর্টালের (www.dmpnews.org) যাত্রা শুরু হয়। পুলিশের যাবতীয় সংবাদ ছাড়াও জাতীয়, আন্তর্জাতিক, বিনোদন, অর্থনীতিসহ এ পোর্টালে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা হয়। একজন নাগরিকের প্রয়োজনীয় সকল আইনসহ এ পোর্টালের মাধ্যমে পুলিশের প্রতিদিনের সকল কর্মকাণ্ড জানা হয়।
ফেসবুকে ডিএমপি : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের সকল তথ্য তুলে ধরতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সরব রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সাধারণ জনগণকে পুলিশের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ যাত্রা শুরু করে ডিএমপি। পুলিশের সকল সাফল্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পেজের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হওয়ায় এ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আগের থেকে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিসিটিভি : কঠোর নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে ডিএমপি। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলেই সিসি টিভি ফুটেজের মাধ্যমে অপরাধীকে শনাক্তকরণে ভূমিকা রাখায় এর গুরুত্বও বেড়েছে। ডিএমপির ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে এটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়।
ডিএমপি ও বাংলাদেশ পুলিশের মোবাইল অ্যাপস : পুলিশের সকল বিভাগের সংশ্লিষ্ট অফিসারের মোবাইল নম্বর এবং প্রতিটি থানার ঠিকানাসহ এলাকা সংযোজন করে তৈরি করা হয়েছে ডিএমপি ও বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাপস। অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে সহজে একজন ব্যক্তি তার নিকটস্থ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।