
নিজস্ব প্রতিবেদক : শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় জমজমাট রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলী। তবে সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ করেই কমে গেছে বড় গরুর দাম। বেপারিরা কেনা দামেই বিক্রি করে দিচ্ছেন সেসব গরু।
হাটের সবচেয়ে বড় গরুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুষ্টিয়া এক্সপ্রেস’। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা থেকে বশির আহমেদ এ গরুটি এনেছেন। দুই বছর আগে দুই লাখ টাকায় দুই দাঁতি ইন্ডিয়ান ষাঁড়টি কিনেছিলেন তিনি। আর মোটা-তাজা করতে তার ব্যয় হয়েছে আরো দুই লাখ টাকা। প্রথম দিকে তিনি এটির দাম হেঁকেছিলেন ২০ লাখ টাকা। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এটির দাম উঠেছিল ১২ লাখ টাকা। একই গরু সোমবার ৭ লাখ টাকায়ও কেউ কিনছেন না।
বড় গরুটির মালিক বশির আহমেদ বলেন, ‘আমার গরু হাটের সবচেয়ে বড়। এই গরুর দাম দুই দিন আগে ১২ লাখ টাকা উঠেছিল। অথচ এখন ৭ লাখ টাকায়ও কেউ কিনছেন না। এই হাতি(গরু) তো আর ফেলে দেওয়া যায় না। তাই বাড়িতে নিয়ে যাবো। তবে ৭ লাখ টাকা দাম উঠলে বিক্রি করবো’।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বড় গরু অবিক্রিত থাকলেও সেগুলোর ক্রেতা কম। অনেক বেপারি সস্তায় বিক্রি করে দিচ্ছেন সেসব গরু।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শরিফ বেপারি চারটি বড় গরু হাটে তুলেছিলেন। এর মধ্যে সোমবার দু’টি বড় গরু লোকসানে বিক্রি করেছেন। বাকি দু’টিও কম দামে বিক্রি করার চিন্তা করছেন শরিফ।
শরিফ বলেন, ‘বড় গরুগুলি কেউ লিছে নাকো। দামই বুইলছে না যে। ৪৭০ এর গরু(৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা) দাম কইছে ২৭০(২ লাখ ৭০ টাকা)’।
এর পাশেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের তোসলিম বেপারির বিশাল গরুর রাখার স্থান। ২০টি বড় গরুর মধ্যে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪টি। তাও আবার কেনা দামে।
বেঙ্গল ক্যাটেল মার্কেট খামারের ১৭টি বড় গরু হাটে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩টি গরু বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা। বাকি গরুগুলোর দামই বলছেন না ক্রেতারা। কোরবানির ঈদের বাকি মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তাই শেষ মুহূর্তে বড় গরুর বেপারিরা সস্তায় গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
খামারের কর্মকর্তা জয়নাল বলেন, ‘বড় গরুর কেউ দাম বলছেন না। সবার চাহিদা ছোট গরুর দিকে। বড় গরুতে যে খরচ, তার অর্ধেক দামও বলেন না। এখন আমরা কেনা দামে গরু ছেড়ে দেবো’। বড় গরুর বেপারিরা আরও বলছেন, ‘বড় গরু আর ধরে রাখবো না। এখন সস্তায় বিক্রি করবো’। তাদের মধ্যে একজন কুমিল্লার শহিদ বেপারি বলেন, ‘৪ থেকে ৫ লাখ টাকার গরু আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি করবো’।
টাঙ্গাঈলের ফরহাদ হোসেন বেপারি ২০টি বড় গরু হাটে তুলেছেন। বিক্রি হয়েছে মাত্র ৪টি। তিনিও বলেন, ‘২০টি গরু পালতে মাসে এক লাখ টাকার ওপরে খরচ। ৬ মাস ধরে গরুগুলো পালছি। অথচ হাটে গরুর দাম কম বলেন ক্রেতারা’।
এর পাশেই মন খারাপ করে বসে আছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সাইদুল বেপারি। ৮টি গরুর মধ্যে বিক্রি করেছেন মাত্র চারটি গরু। বাকি গরুগুলো সস্তায় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনিও। বেপারিদের ভাষ্য- ক্রেতারা এখন কম বাজেটেই কিনতে পারবেন বড় গরু।

