মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মধুমতি নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি। ভাঙনের ফলে নদীতীরবর্তী তিনটি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে দেড় হাজার একর আবাদি জমি, বসতভিটা-মসজিদসহ কয়েক শ স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে। অনেকে বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মহম্মদপুর সদর, দীঘা, পলাশবাড়িয়া ও বাবুখালী ইাউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত মধুমতির পূর্ব তীরে প্রায় তিন কিলোমিটার ভেঙে গেছে। মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের গোপালনগর, কাশিপুর, ধুলজুড়ী, মুরাইল, রায়পাশা, ভোলানাথপুর, পাচুড়িয়া, রুইজানী ও পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝামা, আড়মাঝি, দেউলী, যশোবন্তপুর, কালিশংকরপুর গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
রুইজানি গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন ইউপি সদস্য তারাপদ চৌধুরী বলেন, ‘মধুমতি আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। আছে শুধু বসতভিটা। চারবার ঘর সরিয়েছি। এবার মনে হচ্ছে শেষরক্ষা আর হবে না।’
কাশিপুর গ্রামের বৃদ্ধ জয়েন উদ্দিন মোল্যা বলেন, ‘বসতঘর থেকে ৩-৪ হাত দূরে মধুমতি ফুঁসছে। ভাঙনের শব্দে রাতে ঘুম আসে না। আতঙ্কে থাকি কখন যেন শেষ সম্বল গিলে খাবে নদী।’
গোপালনগর গ্রামের কলিম উদ্দিন (৮০) বলেন, ‘আমার চোখের সামনে গ্রামডা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। এ পর্যন্ত সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ঘর গাঙে (নদী) গেছে। গ্রামের ১০০ থেকে ১৫০ বিঘা জমিও গ্রাস করেছে নদী।’
মহম্মদপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান বলেন, ‘বহুদিন ধরে এখানে ভাঙন চললেও সরকারিভাবে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীন হোসেন জানান, মধুমতির ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’
মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বলেন, ‘মধুমতির ভাঙনরোধে কাশিপুর এলাকায় একটি প্রকল্পের কাজ চলছে।’
মাগুরা-২ (মহম্মদপুর-শালিখা) আসনের সংসদ সদস্য এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, ‘নদীশাসনের কাজ শুরু হয়েছে। সামনে আরো প্রকল্প নেওয়া হবে।’

