নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন খামারি ও কৃষকরা। মোটাতাজাকরণে দেশীয় পদ্ধতি বেছে নেওয়ায় এই অঞ্চলের গরুর চাহিদাও অনেক বেশি। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে এ জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার খামারি ও কৃষক দেশীয় পদ্ধতিতে ৪০ হাজার গরু মোটাতাজা করেছেন।
নরসিংদীর বেশির ভাগ খামারেই দেশীয় গরুর সমাহার। এসব গরু পরম যত্নে প্রতিনিয়ত দেখভাল করছেন খামারিরা। কোরবানির হাটের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। তাই গরুর খাদ্য তালিকাটাও বেশ সমৃদ্ধ। প্রতিবছরই কোরবানির ঈদ এলে গরু বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন এই জেলার কৃষকরা। ছোট-বড় খামারের পাশাপাশি প্রতিটি কৃষক পরিবার ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করে থাকেন। নিষিদ্ধঘোষিত ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট পরিহার করে ঘাস-খড়ের পাশাপাশি খৈল-ভুসি খাওয়ান তারা।
রায়পুরার চরাঞ্চলের চরমধুয়া গ্রামের গ্রিন এগ্রো ফার্মসের মালিক মো. আহসান শিকদার বলেন, ‘দেশীয় জাতের ৯০টি গরু লালনপালন করা হয়েছে তার খামারে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে এসব গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। দেশীয় গরুর চাহিদা থাকায় এর মধ্যে খামার পরিদর্শনে আসছেন ক্রেতারা। অনেকে খামার থেকেই গরু কিনে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।’
একই উপজেলার দড়িগাঁও গ্রামের গরুর খামারি দুলা মিয়া জানান, শুধু ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নয়, নিজের কোরবানির গরু সংগ্রহ ও মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত গরু প্রদানের জন্যই তার এ উদ্যোগ। নরসিংদী জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুস ছামাদ বলেন, ঈদ উপলক্ষে জেলার ছোট-বড় মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার খামারি ও কৃষক দেশীয় পদ্ধতিতে ৪০ হাজার গরু মোটাতাজা করেছেন। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ তদারকি করেছে এবং খামারিরাও এ বিষয়ে অনেক সচেতন হয়েছেন।

