নিজস্ব প্রতিবেদক : জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে জাতীয় ঐক্য না করতেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শর্ত দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে গুলশানের আর্টিসান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের কফিনে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
প্রসঙ্গত, ঢাকার কূটনীতিকপাড়া গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে গত শুক্রবার (১ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে একদল অস্ত্রধারী ঢুকে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে রেস্টুরেন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। সেখান থেকে ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার এবং ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ প্রেক্ষাপটে রোববার গুলশানের নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সব ভেদাভেদ ভুলে দল-মত নির্বিশেষে সন্ত্রাস বিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, ‘কে ক্ষমতায় থাকবে, কে ক্ষমতায় যাবে- সেটা আজ বড় কথা নয়। আজ আমরা যারা আছি, আগামীতে তারা কেউ হয়তো থাকবো না। দেশ থাকবে, জাতি থাকবে। কিন্তু সেই দেশ ও জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যত আজ বিপন্ন।’
ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘আমরা যে যাই বলি- আমাদের কিছুই থাকবে না, কোনো অর্জনই টিকবে না- যদি না আমরা সন্ত্রাস দমন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। তাই কালবিলম্ব না করে, আসুন আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে দল-মত নির্বিশেষে সন্ত্রাস বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের এ ঐক্যের আহ্বানের জবাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় ঐক্য করতে হলে খালেদা জিয়াকে জামায়াত ছাড়তে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে আন্তরিক নয়। সেজন্য তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শর্ত দেয়া হচ্ছে।’
বিএনপি জামায়াতকে ছাড়বে কিনা- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তিনি ফখরুল।
শ্রদ্ধা নিবেদন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে গুলশানের রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি আমরা গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা আগেও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছি, এখনও নিন্দা জানাচ্ছি।’
এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, বিএনপিপন্থী প্রকৌশলীদের সংগঠনের এ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ ন হ আখতার হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

