নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা ও সারা দেশে গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল।
রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১৪ দলের মুখমাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। গত শুক্রবার গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ও ভবিষ্যত করণীয় ঠিক করতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১৪ দলের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ১১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুরে প্রতিরোধ সমাবেশ। এরপর ১২ জুলাই থেকে ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারা দেশে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও পৌরসভায় সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি গঠন করা হবে।
কমিটিতে সব শ্রেণির পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘পরে ২৪ জুলাই থেকে সাত দিনব্যাপী সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১৪ দল। কোনো দানবীয় শক্তির কাছে মানবতার শক্তি পরাজিত হতে পারে না।’
১৪ দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দানবীয় শক্তিকে পরাজতি করবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সেই সময় দেশি-বিদেশি শক্তি শেখ হাসিনার উত্থানকে ঠেকাতে নারকীয় হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে। এই শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা অবশ্যই জিতব।’
এক প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, ‘অবশ্যই দেশের মানুষ নিরাপদে রয়েছে। আমরা জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করতেই এসব কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি।’
গুলশান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এদেশীয় এজেন্টরা জড়িত কি না- এ প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, ‘অবশ্যই এদেশীয় এজেন্ট জড়িত। এরা সবাই প্রশিক্ষিত শিবির। দেশে এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা বলে কিছু নেই। ভীতি সৃষ্টি করতেই এরা এসব কিছু করছে।’
বৈঠকের শুরুতে গুলশানে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকেও ধন্যবাদ দেওয়া হয় ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। পাশাপাশি নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতিও সহমর্মিতা জানানো হয়।
সে দিনের সেই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান, ভারত ও ইতালির প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাহারা খাতুন, মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বদিউজ্জামান ভুঁইয়া ডাবলু, ফরিদুর নাহার লাইলী, মৃণাল কান্তি দাস, আফজাল হোসেন, এস এম কামাল, ওয়ার্কার্স পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ একাংশের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, জাসদ অপরাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টির শাহাদাত হোসেন, নূরুর রহমান সেলিম, তরিকত ফেডারেশনের এম এ আউয়াল, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, এনামুল হক, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার প্রমুখ।

