অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : হোটেল দি মেরিডিয়ান লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৫ লাখ ৩ হাজার ৯৪৮ টাকার মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাই প্রতিষ্ঠানটি থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা আদায়ের জন্য দাবিনামা সম্বলিত কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে।
গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠানটি এই টাকা ফাঁকি দিয়েছে বলে এনবিআরের নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর প্রমাণ পায়। পরবর্তীতে ঢাকা উত্তরের কাস্টমস্, এক্সাইজ ও ভ্যাট এর কমিশনার মো. মাসুদ সাদিক স্বাক্ষরিত নোটিস গত ২৮ জুন হোটেল দি মেরিডিয়ান লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অথবা মালিক বরাবর পাঠানো হয়। এনবিআর সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এনবিআরের তদন্তে দেখা যায়, রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত অভিজাত মানের হোটেল দি মেরিডিয়ান লিমিটেড। সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হোটেলটি ৩০ কক্ষ বিশিষ্ট ও একটি রেস্টুরেন্ট আছে। ৩০টি কক্ষের মধ্যে সিঙ্গেল কক্ষ ১ হাজার টাকা, ডাবল কক্ষ ১৫০০ এবং ট্রিপল কক্ষ ২২০০ ভাড়া হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি আদায় করে থাকে বলে এনবিআর কর্মকর্তাদের জানানো হয়। এর মধ্যে হোটেলের চুক্তিপত্র অনুযায়ী সরাসরি বিমান থেকে যেসব অতিথি অবস্থান করে সেসব অতিথির সেবামূল্য বিমান কর্তৃপক্ষ মূসক ও আয়কর কেটে নিয়ে প্রদান করে।
এভাবে গত বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে কক্ষ ও ফুড বাবদ মোট ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ২৩৪ টাকা গ্রহণ করেছে হোটেলটি। যার মোট ভ্যাট আসে ১৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ টাকা। এর মধ্যে বিমানের অতিথিদের সেবামূল্য বাবদ ১০ লাখ ২৩ হাজার ৪৩০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
এছাড়া এসব ফাঁকি ধরার প্রাথমিক পর্যায়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ থেকে গত বছরের ৫ নভেম্বর ২ লাখ পরিশোধ করায় ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি আরো সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। সেই হিসেবে হোটেলটির কাছে আরো ৫ লাখ ৩ হাজার ৯৪৮ টাকার ভ্যাট আনাদায়ি রয়েছে। যা মূসক আইন-১৯৯১ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তাই এনবিআরের পাঠানো এই নোটিসে ফাঁকিকৃত ভ্যাট ফেরত অথবা কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে স্বপক্ষে যুক্তি (যদি থাকে) দেয়ার জন্য ১৫ দিন সময় দেয়া হয়েছে। যদি এই ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে কোনো কিছু জানানো না হয় অথবা ফাঁকিকৃত টাকা ফেরত দেয়া না হয় তবে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে।

