স্পোর্টস ডেস্ক : দেখতে-দেখতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে এরই মধ্যে নয়টি বছর পার করে দিয়েছেন তামিম ইকবাল খান। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হারাতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল বাঁহাতি এই মারকুটে ওপেনারের। তিনি ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ রানের মালিক তিনি। গত দেড় বছরে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। এবার জানালেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে আরো ছয় বছর খেলতে চান তিনি।
২৭ বছরেও দারুণ ফিট তামিম। তবে গত ১৮ মাসে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময়টা পার করেছেন। এমনকি সদ্য শেষ হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) তার অধিনায়কত্বে আবাহনী চার মৌসুম পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই সঙ্গে এই লিগে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান তামিম। ১৬ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি এবং চার হাফ সেঞ্চুরিসহ ৭১৪ রান নিয়ে লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শেষ নিয়ে নিজের পরিকল্পনা জানিয়েছেন ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে। ক্রিকইনফো’র বিশেষ সাক্ষাৎকারে তামিম জানিয়েছেন, ‘আমি আরো ছয় বছর খেলতে চাই। সত্যিই আমি যেকোনো একটি ফরম্যাটে ১০ হাজার রান করতে চাই। টেস্টে সেটা কঠিন হবে বলে মনে হচ্ছে। তবে যদি আরও ১৫০টি ওয়ানডে খেলতে পারি তাহলে তা সম্ভব। আর দেশের হয়ে আরও ছয় বছর খেলা চালিয়ে যেতে চাই।’ বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাঁহাতি হার্ডহিটার ওপেনারের হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালে অবসর নেবেন তিনি।
ওয়ানডেতে ৩৯.৪৬, টেস্টে ৩১.৬৩ আর টি-টোয়েন্টিতে ২৪.৫৫ গড়ে ব্যাট করা তামিম বলেন, ২০১০ সালটি আমার জন্য দুর্দান্ত কেটেছিল। ২০১৫ সালেও আমি পরিকল্পনা করেছিলাম কি কি অর্জন করতে হবে। পরিকল্পনা মতো আমার অর্জনগুলো ধরা দিয়েছে। চেয়েছিলাম ২০১৫ সালে সব ফরমেটে এক হাজার রান পূর্ণ করব। লক্ষ্য ছিল টেস্টে এবং ওয়ানডেতে ৫০ এর উপরে ব্যাটিং গড় ধরে রাখব। আমি সেটির কাছাকাছি করেছি। আর তাই নিজের ব্যাটিংয়ের ফল দেখে আমি দারুণ তৃপ্ত হয়েছি।’
গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দারুণ সব সাফল্য পেয়েছে। যদিও পাঁচ বছর আগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তামিম বলেন, ‘আগে তখন মোটামুটি ম্যাচের ফল বলে দেয়া যেত। কিন্তু এখন আমাদের সময় বদলেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যথেষ্ট উন্নতি করেছে।’ তামিমের মতে, বাংলাদেশ দল ভালো পারফর্ম করছে দেখেই অন্য দলগুলো তাদের বিপক্ষে এ মুহূর্তে খেলতে চাইছে না।
২৭ বছর বয়সী তামিম বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ রানের মালিক। ১৫৩ ওয়ানডে ম্যাচে ৪ হাজার ৭১৩ রান করেছেন তিনি। আর টেস্ট ক্রিকেটে সাদা পোশাকে ৪২টি টেস্ট ম্যাচ খেলে সংগ্রহ করেছেন ৩ হাজার ১১৮ রান। আর ৫২টি টি২০ ম্যাচে বাঁহাতি এই ওপেনারের রান ১ হাজার ১৫৪। ২৭ বছর বয়সী তামিম টাইগারদের হয়ে তিন ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ রানের মালিক। ১৫৩ ওয়ানডে ম্যাচে ৪ হাজার ৭১৩ রান করেছেন তিনি। সাদা পোশাকে ৪২টি টেস্ট ম্যাচ খেলে করেছেন ৩ হাজার ১১৮ রান। আর ৫২টি টি২০ ম্যাচে বাঁহাতি এই মারুকুটে ওপেনারের রান ১ হাজার ১৫৪।
তামিম বলেন, ‘দুটি বিশ্বকাপেও খেললেও আপনার দক্ষতা বাড়বে না। কিন্তু যেটা করবে তা হলো, আপনাকে দীর্ঘদিন খেলানোর যোগ্য রাখবে। আমার মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমি কখনই সাব্বির রহমান হতে পারব না। হয়তো আমার বয়সী যেকোনো ক্রিকেটারের চেয়ে ফিটনেসে এগিয়ে থাকতে পারব। এটা আমাকে আরো এক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাখবে।’

