রাজশাহী প্রতিনিধি : ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজশাহীতে ৫০৮ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এসব নির্যাতনের মধ্যে রাজশাহীতে শ্বশুর বাড়ির নির্যাতনে শিকার গৃহবধূ আত্মহত্যা, হত্যার ঘটনাগুলো বেশি ঘটেছে। এছাড়া নারী ও শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে উঠেছিল স্বাভাবিক ঘটনা।
২০১৫ সালে রাজশাহীতে নারী ও শিশু হত্যা ২৫, আত্মহত্যা ৫২, আত্মহত্যার চেষ্টা ৫, যৌন নির্যাতন ৩৩, ধর্ষণ ৪০, নির্যাতন ৮৫, হত্যার চেষ্টা ১, নিখোঁজ ২৪, পাচার ৫, অপহরণ ২৬, অস্বাভাবিক মৃত্যু ৮৩, আহত ১২৯। এছাড়াও আরো ২৮৫ শিশু ও ২২৩ নারী মিলে সর্বমোট ৫০৮ জন নারী-শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে নগরীর আলোচিত ঘটনা হলো নগরীর মহিষবাথান এলাকায় আইনজীবী হোসেন মোহাম্মদ রমজানের ছেলের স্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যু। নিহত সিফাতের পরিবার তার স্বামী ও শ্বশুর শাশুড়ির বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে মামলার দায়ের করেন।
এ ছাড়াও সারা বছর জেলার গোদাগাড়ী নিলবুনায় ১৩ বছরের কিশোরীকে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ, নগরীর গুড়িপাড়ায় জমজ সন্তান জন্ম দেয়ায় এরিনা খাতুনকে পাশবিক নির্যাতন, মোহনপুর রায়নপুরে কবুতর ধরাকে কেন্দ্র করে ১২ বছরের সাকিবকে পিটিয়ে হত্যা, মোহনপুরে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ, বাগমারায় ১৪ বছর বয়সী প্রতিবন্ধি হাসি ধর্ষণ, পুঠিয়ায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূ রেবেকাকে পিটিয়ে হত্যা, তানোরে আদিবাসী ৮ বছরের শিশুকে বৃদ্ধার ধর্ষণ, বাঘায় বনভোজেনর চাঁদার জন্য ৪২ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেন শিক্ষক, পুঠিয়ায় ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রীকে চাচাতো ভাই ও সঙ্গীর ধর্ষণ, পুঠিয়ায় যৌতুকের টাকার জন্য ১৯ বছরের রুপালিকে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যা।
এছাড়াও তানোরে প্রকাশ্য দিবালোকে আধিবাসী ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা, পবায় বিয়েতে অমত থাকায় বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করে বৃষ্টির (১৪) আত্মহত্যা, দুর্গাপুরে ৪ বছরের শিশু কন্যা রজনীকে ধর্ষণের অভিযোগ, নগরীতে গৃহশিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, বাগমারায় যৌন ব্যবসায় রাজী না হওয়ায় ১৬ বছরের স্ত্রীকে পাশবিক নির্যাতন করে পাষণ্ড স্বামী, দুর্গাপুরের স্টার জলসা দেখতে না দেয়ায় ছাত্রী সারমিনের আত্মহত্যা, পুঠিয়া নন্দনপুর গ্রামের সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা গণধর্ষণের অভিযোগ, মোহনপুরে বৃদ্ধা কর্তৃক ২ বছরের শিশু ধর্ষণ, পবায় ৬ বছরের শিশু আদনানকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে পাষণ্ড বাবা, নগরীতে ৫০ বছর বয়সী গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী, চারঘাটে নারকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে গৃহবধূ রুপাকে কুপিয়ে হত্যা, বাঘায় স্বামীর ওপর অভিমান করে গৃহবধূ রীনার আত্মহত্যা।
গোদাগাড়ীতে মাহমুদা নামে গৃহবধূর কান ছিড়ে নেয় তার ভাসুর, তানোরে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের কারণে অন্তসত্ত্বা, তানোরে ১৪ বছরে বয়সী তরুণী অপহরণ, রাবিতে প্রকাশ্যে দুই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, পরজন্মে মিলনের আসায় নগরীতে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যা, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) চিকিৎসা নিতে আসা রোগীকে শ্লীলতাহানী, দূর্গাপুরে পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে হত্যা, বাগমারায় কলেজ ছাত্রীকে অ্যাডিস নিক্ষেপ, রামেকে এগারো দিন পাঞ্চা লড়ে যৌতুকের আগুনে হেরেই গেলেন গৃহবধূ নাসিমা, তানোরে ক্লিনিকে রোগী ধর্ষণ, নগরীর উপশহরে মৌ’কে (২০) যৌতুকের দাবিতে হত্যা, তানোরে ১২ বছর বয়সী শিশুর আত্মহত্যা, বাঘায় প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় কলেজ ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ছিল অন্যতম।
এসব ঘটনা রাজশাহী অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতন পরিস্থিতি ক্রমশই অবনতি ঘটিয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যৌতুকের কারণে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

