ঢাকাThursday , 17 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শতভাগ এডিপি বাস্তবায়নে এবারো শঙ্কা

Link Copied!

Govt. Logoবিশেষ প্রতিবেদক : শতভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবছর কার্যক্রম শুরু করে সরকার। কিন্তু বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর বিফলতায় লক্ষ্যপূরণ অধরা থেকে যায় প্রতি বছর। চলতি বছরের পাঁচ মাসের এডিপি বাস্তবায়নের হারে আবার সেই শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
পাঁচ মাসে মাত্র ১৭ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। যা এই শঙ্কাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে সংশয় প্রকাশ করেছে খোদ তদারকি প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনা কমিশন।
কমিশন সূত্র জানান, শতভাগ এডিপি বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা হলেও বরাবরই তা অধরা থেকে যাচ্ছে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির ৯১ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছিল। টাকার অঙ্কে যা ৭১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা। আগের বছর সংশোধিত এডিপির বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৩ শতাংশ। সেই বার সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ৬৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। খরচ হয় ৫৯ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্য এডিপির আকার ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। সব মিলে চলতি অর্থবছরে মোট ব্যয়ের লক্ষ্য ১ লাখ ৯৯৭ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত) খরচ হয়েছে মাত্র ১৬ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। এটি এডিপির ১৭ শতাংশ।
সেই হিসেবে অর্থবছরের বাকি সাত মাসে দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সামনে ৮৩ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তা অর্জন করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
তিনি বলেছেন, গত তিন অর্থবছরে তারা শত ভাগের কাছাকাছি গিয়েছেন। এবার তারা আশাবাদী- শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন হবে। তবে এ জন্য প্রথম দিকে যেভাবে বাস্তবায়ন হওয়া উচিত, সেভাবে হচ্ছে না। তাই এডিপি বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো বেশি তৎপর ও আন্তরিক হওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অর্থবছরের পাঁচ মাস পরেও ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার ১০ শতাংশ বা তার নিচে রয়েছে। ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫ শতাংশের নিচে। এমনকি অর্থবছরের পাঁচ মাসে মাত্র ৩ শতাংশের কম বাস্তবায়ন করতে পেরেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তিনটি। এর মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়নের রেকর্ডও রয়েছে।
৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয়। ১ শতাংশ ব্যয় করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। আর বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ব্যয় করেছে ৫ শতাংশ অর্থ। এ ছাড়া পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বরাদ্দের ১০ শতাংশও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন ৯ শতাংশ, অর্থ বিভাগ ৯, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৬ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৯ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে বাস্তবায়নের বিরাট চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য এবং সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম  বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর প্রতি প্রতিবছরই নির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকে। বিভাগগুলো নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। কারণ এ বিষয়ে জোর নির্দেশ থাকে। তবুও অর্থছাড় সংক্রান্ত বিলম্ব বা বড় আকারের প্রকল্পের কারণে এডিপি বাস্তবায়ন হারে প্রভাব পড়ে।
তিনি বলেন, মূলত বছরের শেষ দিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের হিসাব-নিকাশ আসে। তখন এই হার বেড়ে যাবে। তারপরও পাঁচ মাসে মাত্র ১৭ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন তাদের উদ্বিগ্ন করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নিয়ে আবার বসা হবে। তখন পরবর্তী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিপরীতে প্রায় ৭৩ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে; টাকার অঙ্কে যা ৭৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যুৎ বিভাগ প্রথম পাঁচ মাসে ব্যয় করেছে ৩ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। তাদের বরাদ্দ রয়েছে ১৬ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন হার ১৭ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাদের বরাদ্দ ১৬ হাজার ১৪০ কোটি টাকা; ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। সংস্থাটি মোট বরাদ্দের ২৭ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে। সেদিক থেকে কিছুটা এগিয়ে আছে তারা।
চলতি অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি ধরা হচ্ছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হওয়াকে। চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটিতে বড় অংকের এডিপি বরাদ্দ রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর প্রকল্পের নদী শাসন ও মূল পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আশা করা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরের জন্য এ প্রকল্পের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হলে এডিপি বাস্তবায়ন হারে বড় ধরনের অবদান রাখবে। বিষয়টি আমলে নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু তাদের এডিপির বড় একটি অংশ। এর কাজ শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে এটি সম্পন্নও হবে।