নিজস্ব প্রতিবেদক : জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ঋণ গ্রহণে সম্মত হলে তা বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী হবে। তাই ঋণের পরিবর্তে আর্থিক সহায়তা আদায় নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (স্কপ-২১) বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এ মতামত তুলে ধরেন। নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, বাংলাদেশ (এনসিসিবি) আয়োজিত এই বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান।
এনসিসিবি চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনসিসিবির কোঅর্ডিনেটর মিজানুর রহমান বিজয়। আলোচনায় অংশ নেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল করিম, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট হাফিজুল ইসলাম খান, জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ ফজলে রাব্বী সিদ্দিকী আহমেদ, জলবায়ু অভিযোজন বিশেষজ্ঞ মির্জা শওকত আলী, দুর্যোগ প্রশমন বিশেষজ্ঞ মো. জিয়াউল হক, সাংবাদিক কাওসার রহমান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কাজী খলীকুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ঋণের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে আমাদের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য দেনদরবার অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ক্ষতিপূরণ আদায় একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এ জন্য আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অভিযোজন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অভিযোজন কাজের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উন্নত বিশ্বের দেশগুলো দায়ী। তারা সেই দায় ইতোমধ্যে স্বীকার করেছে। তবে প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষতিপূরণ প্রদানে টালবাহানা করছে। এজন্য প্যারিস সম্মেলনে তাদের চুক্তিবদ্ধ হতে বাধ্য করতে হবে। চুক্তি হলে বিষয়টি নিয়ে আগামীতে হৈ চৈ করা সহজ হবে। সেক্ষেত্রে অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর নেতৃত্বে ভূমিকা ধরে রাখতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জলবায়ু প্রকল্প পরিকল্পনায় অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। আইন সংশোধনের মাধ্যমে জলবায়ু বিপন্ন এলাকার মানুষের প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তারা জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি জলবায়ু কমিশন গঠনের আহ্বান জানান।

