ঢাকাMonday , 9 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বই উৎসবের প্রস্তুতি : ছাপাখানায় ব্যস্ততা

Link Copied!

New Bookনিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিবছরের মত সারাদেশে ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে প্রায় পৌনে ৫ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে সরকারি ভাবে বিনামূলে বই বিতরণ করা হবে। সারাদেশে একযোগে ‘বই উৎসব’ পালনের জন্য প্রাধমিক ও মাধ্যমিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ৩৩ কোটি  ৪৫ লাখ বই তোলে দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সরকারি এসব বই বিতরণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ছাপাখানাগুলোকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছে। এনসিটিবির বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে বই সরবরাহে পুরোদমে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কারখানাগুলো। দিন-রাত চলছে বই ছাপানোর কাজ।
আগস্ট মাস থেকে শুরু হওয়া পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর কাজ ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ছাপানোর কাজ শেষ করতে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হচ্ছে ছাপাখানা। সময়ের কথা মাথায় রেখে স্বাভাবিকের কয়েক গুণ চাপ বেড়েছে ছাপাখানার কর্মীদের।
এদিকে শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে বই তোলে দেয়ার জন্য ছাপাখানাগুলোর উপর সরকারের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় শিক্ষক্রম ও পাঠপুস্তক বোর্ড, ইন্সপেকশন টিমসহ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কমিটি নিয়মিত ছাপাখানাগুলো পরিদর্শন করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাঠপুস্তক ছাপানোর কাজে পুরোদমে ব্যস্ত ছাপাখানাগুলো। বই ছেপে বের হয়ে আসার সাথে সাথে ফর্মা অনুযায়ী কাটিং করে বাঁধাই মেশিনে বাঁধাই করা হচ্ছে ছাপাখানাতেই। বাঁধাইয়ের পরপরেই সারি বদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে গোডাউনে। সেখান থেকে গুণে গুণে ট্রাকে তুলে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন উপজেলায়।
পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর কাজ পাওয়া ব্রাইট প্রিন্টার্সের ব্যবস্থাপক আব্দুল কাইয়ূম জানান, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর ফেনী, সিলেটসহ বিভিন্ন উপজেলায় চারকোটি পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করার কাজ পেয়েছি। ছাপানোর কাজ আগস্টে দেয়া হলেও রাইটিং, প্রোভ আর ফর্মা তৈরি করতে সময় চলে যায় এক মাস। এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ পাঠ্যপুস্তক ছাপিয়ে নিজস্ব পরিবহনে সরবরাহ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে বাকি কাজও হয়ে যাবে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং সিলেটে সাড়ে ৩ কোটি পাঠ্যপুস্ত সরবরাহের দায়িত্ব পাওয়া মাতুয়াইলের আনন্দ প্রিন্টার্সের ব্যবস্থাপক এস এম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ‘রাজনৈতিক মধ্যেই গত বছর সময়মতোই পাঠ্যপুস্তক ছাপিয়ে সরবরাহ করতে পেরেছি। আর এবার পরিস্থিতি যেহেতু স্বাভাবিক তাই কাজ শেষ করে সঠিক সময়েই বই পৌঁছিয়ে দিতে পারবো।
মৌসুমী প্রিন্টার্সের ব্যবস্থাপক লিটন জানান,এ বছর এখান থেকে প্রায় চার কোটি বই সরবরাহ করা হবে। ইতোমধ্যে পৌনে তিন কোটি বই দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান না করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এনসিটিবির বই ছাপানোর জন্য বাংলাদেশে যথেষ্ট পরিমান প্রিন্টিং প্রতিষ্ঠান আছে।এর জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবানের প্রয়োজন নেই।
এ ব্যাপারে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বিতরণ বিভাগের নিয়ন্ত্রক মোস্তাক আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘সারাদেশে আগামী শিক্ষাবর্ষে ৩৩ কোটি ৪৫ লাখ পাঠ্যপুস্তক বই বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে ২১ কোটি পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হয়েছে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই সব উপজেলায় বই পৌঁছাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেখানে বই ছাপা-বাঁধাইয়ের কাজ হচ্ছে সেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি করছেন এনসিটিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিগত বছরের মতো এবারও ১ জানুয়ারি সারা দেশে একযোগে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের মাধ্যমে বই উৎসব করা হবে।’
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রায় ১৯ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বই উৎসব। এরপর ১০১৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত একই সময়ে বিতরণ করা হয়েছে আরও একশ ৩৬ কোটি বই।