ঢাকাFriday , 14 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশেষ ক্ষমতা আইনের গ্যাঁড়াকলে বিএনপি

Link Copied!

BNP Logoনিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনৈতিক হামলা ও নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। হামলা-নাশকতার অন্য সব আইনে আসামির জামিন মিললেও বিশেষ ক্ষমতা আইনে জামিন ব্যবস্থা খুব কঠিন করা হয়েছে। এ আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণ হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডেও দণ্ডিত করতে পারেন আদালত। তাই আইনতভাবে লড়াই ছাড়া বিশেষ এই আইনের হাত থেকে রক্ষা পেতে পালিয়ে বাঁচার পথ খুঁজছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ ধারা-উপধারায় রয়েছে আইনটির সবচেয়ে কঠিন নির্দেশনা। এই ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি- বেসরকারি যে কোনো ধরনের গাড়ি, স্থাপনা, রাস্তাঘাট ইত্যাদির ওপর হামলা অথবা নাশকতা কিংবা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনে মামলা করা যাবে। আর ১৫-এর ৩ উপধারা অনুসারে, উল্লেখিত অপরাধ প্রমাণিত হলে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ যে কোনো দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
বিশেষ ক্ষমতা আইনটি আওয়ামী সরকারের আমলে ১৯৭৪ এ করা হয়েছিলো। এই আইনকে দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ ‘কালো আইন’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন সবসময়। আইনে কোনো অভিযোগ ছাড়াই মানুষকে আটকে রাখার বিধান রয়েছে।
ক্ষমতার পালাবদলে আইনটি সরকার কর্তৃক বিরোধীদলকে নাজেহাল করার সর্বোচ্চ ‘আইনি হাতিয়ারে’ পরিণত হয়েছে। এর আগে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে নাজেহাল করতে এই আইনের অবাধ প্রয়োগ ঘটিয়েছিল।
বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকার পূর্বের দেখানো পথ অনুসারে বিএনপিকে শান্ত রাখতেই আইনটির ব্যবহার করছে। তাই আইনটিকে ‘গণতন্ত্র দমনের হাতিয়ার’ বলে উল্লেখ করেছেন সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, বিগত আড়াই বছরে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন আইনে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে।
এর মধ্যে ঢাকাতে মামলা হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার। যার মধ্যে খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, বরকতউল্লাহ বুলু, সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ বিএনপির অনেক কেন্দ্রীয় নেতা রয়েছেন।
২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরে ৬৫৯টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
আর ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩০ মে পর্যন্ত বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ অন্য আইনের মামলায় অন্তত এক হাজার ৫০০টি অভিযোগত্র আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ।
এসব অভিযোগপত্র ভিত্তিহীন এবং ক্ষমতার জোরে সাজানো হচ্ছে বলে বিএনপির আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন।
পুলিশের বর্ণনা আর বিএনপি আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য মতে, বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনেসহ ভিন্ন আইনে অন্তত ১৩টি মামলার বিচার চলছে। দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৭৬টি, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ৭৮টি, যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ৪৪টি, বরকতউল্লাহ বুলুর বিরুদ্ধে ৫০টি এবং সালাউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অন্তত ২৭টি মামলার বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর মধ্যে গত ৮ মাসে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে খালেদা জিয়াসহ এগারোশ বিএনপি নেতাকর্মীর নামে শতাধিক মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন আইনে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
গত ৬ মে যাত্রাবাড়ীতে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে ডিবি পুলিশ।
আবার ২০ মে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেকটি মামলাতেও খালেদাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। গত জানুয়ারি মাসে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুসহ কমপক্ষে ছয়শো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩৩টি মামলা হয়।
এছাড়াও মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধে ১৪টি, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাসের নামে ৪৭টি, বিএনপির সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে ১৪টি, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর বিরুদ্ধে ১৭টি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহর বিরুদ্ধে ৮টি, আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে ৫টিসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও সকল পদস্থ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লক্ষাধীক মামলা দায়ের ও তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন,‘বিশেষ ক্ষমতা আইন কিভাবে কার্যকর হবে সে বিষয়েও আইনগত দ্বিমত রয়েছে। যা আমরা পরবর্তী পর্যায়ে (ক্ষমতায় এলে) ক্ষতিয়ে দেখবো। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। সরকার যদি চায় এই গণতান্ত্রিক শক্তিকে মামলা-মকদ্দমা, হামলা করে বিচ্ছিন্ন করে দেবে তবে দেশে অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সৃষ্টি হবে। যা বাংলাদেশের জন্য খুবই ভয়াবহ অবস্থা হবে বলে আমি মনে করি। বিশেষ ক্ষমতা আইনে দ্রুত বিচার করে বিএনপিকে দামন-পীড়নের প্রবল ইচ্ছা রয়েছে সরকারের।
খন্দকার মাহবুব হোসেন জানান, সরকারের এখনকার কৌশল হচ্ছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দ্রুত বিচার শেষ করে খালেদা জিয়াকে জনসমক্ষে হেয়-প্রতিপন্ন করতে সাজা প্রদান করা। এভাবে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রচলন করা। এতে বহিঃবিশ্বে সরকারের মানসম্মান ক্ষুন্ন হবে। দেশের জনগণ বিক্ষুপ্ত হয়ে পড়বে এবং দেশ একটি গণআন্দোলনের দিকে ধাবিত হবে। হামলা-মামলা দিয়ে বিএনপিকে প্রতিহত করতে সরকার দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলবে। বিশেষ ক্ষমতা আইন একটি ‘কালো আইন’। সরকার বদলালেই এটি তখনকার বিরোধীদলের জন্য অশুভ হয়ে উঠবে।’
তবে এই আইনকে ‘কালো আইন’ মানতে নারাজ ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু। তিনি বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন কোনো ‘কালো আইন’ নয়। এর কোনো ধারার পরিমার্জন বা পরিবর্ধন প্রয়োজন আছে বলেও মনে করি না ‘
তিনি আরো বলেন, ‘কখনোই এই আইন বিরোধীদলকে হয়রানি করার জন্য ব্যবহার হয় না। নাশকতার অভিযোগের বিচারে এই আইনের ধারা-উপধারা ঠিকই আছে। দেশে বোমাবাজি, ভাঙচুর, পেট্রোল বোমায় মানুষ হত্যাসহ বিএনপির সকল অপরাধ দৃশ্যমান। তাই নাশকতার অভিযোগ এনে এই আইনে বিএনপির বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো করা হয়েছে তা প্রতিহিংসাপরায়ণ বা তাদের দমন-পীড়নের জন্য নয়। প্রকৃত অভিযোগের ওপর নির্ভর করেই তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো করা হয়েছে।’